ব্লগ লেখার নিয়ম এবং ব্লগিং সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা

ব্লগিং কেন করবে এবং ব্লগ সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা

লিখালিখি কি তোমার শখ? একবার কিছু লিখা শুরু করলে অন্য সব কাজের কথা কি বেমালুম ভুলে বসো? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে ব্লগিং তোমারই জন্য। ব্লগ লেখার নিয়ম সম্পর্কিত এই লিখাটি পড়ে ফেলার পর ব্লগ কি, ব্লগিং কেন করবে, ব্লগ থেকে ইনকাম এবং এ সম্পর্কিত প্রাথমিক সব তথ্য তোমার আয়ত্তে এসে যাবে।

ব্লগ কি (ব্লগিং সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা)

ব্লগ হলো বিশেষ এক প্রকার ওয়েবসাইট, যেখানে পেইজের তুলনায় কনটেন্টের প্রাচুর্য ও গুরুত্ব বেশি থাকে। ব্লগ ওয়েবসাইটগুলো ক্রমাগত বিভিন্ন কনটেন্ট (হতে পারে সেটা কোনো লেখা, ছবি কিংবা অন্যকিছু) প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে তাদের ওয়েবসাইটকে নিয়মিত আপডেটেড রাখার চেষ্টা করে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, Withbangla একটি ব্লগ ওয়েবসাইট। কারন এখানে নিয়মিত বিভিন্ন ধরণের লেখা প্রকাশ করা হচ্ছে। Withbangla এর মূল উদ্দেশ্যই কনটেন্ট (সাধারণত আর্টিকেল) তৈরি এবং প্রচার করা।

অন্যদিকে সাধারণ ওয়েবসাইটগুলোর মূল উদ্দেশ্য নিয়মিতভাবে কনটেন্ট প্রকাশ থাকে। সেগুলো হয় মূলত অনেকগুলো পেইজের সমষ্টি। যেমন মনে করো, তোমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। সেখানে গেলে দেখতে পাবে, বিভিন্ন পেইজের সমাহার, যেগুলো ওয়েবসাইট তৈরীর সময় বানিয়ে রাখা হয়েছে। পরে ছোটখাটো নোটিস ছাড়া নিয়মিতভাবে কনটেন্ট প্রকাশের প্রয়োজন হয়নি।

ব্লগ কিভাবে শুরু হলো এবং এর ইতিহাস সম্পর্কিত প্রচুর আলোচনা ইতিমধ্যেই ইন্টারনেটের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাই এ সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলব না। তুমি চাইলে এখানে যেয়ে ব্লগের পূর্নাঙ্গ ইতিহাস জেনে নিতে পারো।

ব্লগিং কেন করবে?

কোনো ব্লগে লিখালিখি করাকে ব্লগিং বলে।

এক কথায় বলতে গেলে, ব্লগিং করবে, কারন এর মাধ্যমে যত সহজে নিজের প্রতিভা প্রকাশ ও বিকশিত করা যায়, অন্য কোনো মাধ্যমে তা সম্ভব নয়। আর লিখালিখি যদি কারো শখ হয়ে থাকে, তবে ব্লগিংই তার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিৎ। ব্লগ মাত্রই লিখালিখি নির্ভর হওয়ায় লেখক কিংবা লেখক হতে ইচ্ছুক মানুষদের জন্য ব্লগিং বয়ে এনেছে স্কিল ডেভেলপমেন্টের এক সুবর্ণ সুযোগ।

আমাদের দেশে ‘ব্লগ’, ‘ব্লগার’ বা ‘ব্লগিং’ এর মতো শব্দগুলোর তেমন জনপ্রিয়তা না থাকলেও বড় বড় প্রযুক্তি নির্ভর দেশগুলোতে এগুলো নিত্য ব্যবহার্য শব্দে পরিণত হয়েছে। সেখানে লাখ লাখ মানুষ আছে, যারা ব্লগিংকে নেশা তো বটেই ব্লগ লেখার নিয়ম ভালোভাবে শিখে, প্রয়োগ করে এবং পেশাদারি মনোভাব নিয়ে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করার জন্য প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে সচ্ছল জীবন যাপন করছে।

আমাদের দেশে ব্লগ, ব্লগার বা ব্লগিং এর মতো শব্দগুলো এখনো পর্যন্ত তেমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। এটা কিন্তু মোটেও হতাশার কথা নয়। বরঞ্চ এটা সম্ভাবনার কথা। কারন, বাংলাদেশে প্রযুক্তি সংক্রান্ত অগ্রগতির যে ধারা চালু হয়েছে, এটা বজায় থাকলে খুব শীঘ্রই মানুষ ইন্টারনেটের প্রতি আরো বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। আর এখনই ব্লগিং এর সাথে জড়িয়ে পড়লে তখন হয়তো তুমিই হবে অভিজ্ঞতার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি উন্নতদের দলে।

Withbangla.com

আমার অভিজ্ঞতার আলোকে, ‘ব্লগিং কেন করবে’ প্রশ্নের উত্তর হলো–

  1. ব্লগিং করবে কারন এটা তোমায় মানসিকভাবে উন্নত করে।
  2. নির্দিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত জানতে উদ্দীপ্ত করে।
  3. লিখালিখির হাত ভালো করে।
  4. মানসিক শান্তি দান করে।
  5. সঠিকভাবে পরিশ্রম চালালে সীমিত আকারে পকেট ভরায়।

ব্লগারদের কাজ ও গুরুত্ব

একটা সময় কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে জানার জন্য মানুষকে বহু কষ্ট করতে হতো, অপেক্ষা করতে হতো অনেক দিন এবং কখনো কখনো পাড়ি দিতে হতো বহু পথ। যুগ পাল্টেছে৷ এখন আর এসবের কিছুই করতে হয়না। ঘরে শুয়ে হাই তুলতে তুলতে স্মার্টফোনের কিছু জায়গায় স্পর্শ করলেই খুলে যায় জগতের ক্রমবর্ধমান তথ্যভান্ডার।

কে তৈরী করল এই তথ্যভান্ডার? নিয়মিত এতো তথ্য কে ই বা সংযুক্ত করছে? কোনো রোবোট? কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি? কোনো প্রতিষ্ঠান?

না! এ সব কীর্তিই কিন্তু ব্লগারদের। আর তারাই ব্লগার, যারা ব্লগ লেখার নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করে কোনো ব্লগে নিয়মিত লিখালিখি করে। কোটি কোটি ব্লগারের চেষ্টাতেই তুমি আমি যেকোনো সময় যেকোনো মুহুর্তে মাত্র কয়েকটা স্পর্শের বিনিময়ে জেনে নিচ্ছি একগাঁদা তথ্য!

তাহলে একবার ভেবে বলো দেখি, আমাদের অগ্রযাত্রায় ব্লগারদের ভূমিকা ঠিক কতটুকু!

ব্লগে কি লিখবে : ব্লগ লেখার নিয়ম

ব্লগে কি লিখবে : ব্লগ লেখার নিয়ম
Image by yogesh more from Pixabay

যদি মনে করো ব্লগ লেখার নিয়ম খুবই জটিল এবং তোমার পক্ষে তা রপ্ত করা সম্ভব হবে না; তবে তোমার জানার জন্য স্পষ্টভাবেই বলছি- ব্লগ লেখার নিয়ম খুবই সহজ। তোমার ব্লগে তুমি যা মন চায় তাই লিখতে পারো৷ আনন্দ, বেদনা, সুখ-দুঃখ, যেকোনো কিছুই হতে পারে তোমার লিখার বিষয়।

শুধু লিখা নয়, তুমি ছবি তুলে গ্যালারি ব্লগ, ভিডিও বা অডিও স্টোরের ব্লগও তৈরি করে ফেলতে পারো। তোমার ব্লগে তুমি কি করবে সেটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে তোমারই উপর।

অবশ্যই পড়ার মতো কিছু-

কিন্তু কোনো বৃহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ব্লগ তৈরি করলে ব্লগ লেখার নিয়ম পরিবর্তন করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজগুলো ব্লগে নিয়মিত করে যেতে হবে। হয়তো তুমি ব্লগ বানিয়ে গুগলে র‍্যাংক করতে চাও৷ সেক্ষেত্রে তোমায় গুগলের নির্দেশনা মেনে আর্টিকেল লিখতে হবে। যদি ব্লগ তৈরি করে অনলাইনে টাকা ইনকাম করা তোমার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান অথবা এ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কগুলোর নির্দেশনা মেনে কনটেন্ট তৈরী করতে হবে।

গুগলে র‍্যাংক করা কিংবা অর্থ উপার্জন যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে এমন কিছু লিখতে হবে, যা প্রচুর মানুষ পড়তে চায়, জানতে চায়। তুমি যদি কোনো জনপ্রিয় পাবলিক না হয়ে থাকো, তবে বৃহৎ সংখ্যক মানুষ তোমার সুখ দুঃখের কথা জানতে নিশ্চয়ই গুগলে সার্চ দিবে না। তাই এমন কিছু নিয়ে লিখতে শুরু করতে হবে, যা প্রচুর মানুষ পড়বে। এক্ষেত্রে কিছু জনপ্রিয় টপিক হলো, অনলাইনে আয়, প্রযুক্তি, ফ্যাশন, রুপচর্চা, অনুপ্রেরণা ইত্যাদি।

আরও পড়ুন-

ব্লগিং এর জন্য উপযুক্ত ভাষা নির্বাচন

বেশিরভাগ মানুষ এই প্রশ্নের উত্তরে চোখ কান বুজে এক নিঃশ্বাসে বলে দেয়, ‘অবশ্যই ইংরেজি!’ কিন্তু আসলেই কি তাই?

ব্লগিং এর জন্য মাতৃভাষা বাংলাকে ছেড়ে ইংরেজি বেছে নেয়ার কারন ধরা হয় ‘অর্গানিক ভিজিটরের বিপুল সংখ্যাকে’। কিন্তু অন্ধভাবে ইংরেজিকে সাপোর্টকারীরা ইংরেজী ভাষায় সার্চ করা অসংখ্য ভিজিটরের সংখ্যা দেখতে পেলেও বিপুল প্রতিযোগিতা তাদের চোখে পড়ে না। এটাই মুল সমস্যা।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ইংরেজি একটা অন্তর্জাতিক ভাষা। এই ভাষায় সারা বিশ্বের মানুষ ব্লগিং করছে। তাই ইংরেজিতে ব্লগিং শুরু করলে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা অনেক বেশি থাকবে। সফলতা পেতে প্রচুর সময় লেগে যাবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা অসম্ভব হয়েও উঠতে পারে।

অথচ বাংলা ভাষায় কিন্তু প্রতিযোগিতা অনেক কম। তাই বাংলা ভাষায় কনটেন্ট লিখে সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে বেশি। আর গুগলে বাংলাতে সার্চ করা মানুষের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এপার বাংলা, ওপার বাংলা মিলিয়ে বাংলাভাষী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমাগত উর্ধ্বগামী।

ব্লগ থেকে ইনকাম (ব্লগ থেকে সত্যিই আয় করা যায়?)

ব্লগ থেকে ইনকাম করা যায় এবং লাখ লাখ সফল ব্লগারের আয়ের অন্যতম উৎসই এটা। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ শুধুমাত্র ব্লগিং করেই হেসে খেলে জীবন পার করে দিচ্ছে। তাদের চাকরীর পেছনে দৌড়ে পায়ে ফোস্কা ওঠাতে হচ্ছে না। তবে ব্লগ থেকে আয় করা দৈবিক কোনো বিষয় নয়। ব্লগ খুলে ব্লগ লেখার নিয়ম এর প্রতি সঠিকভাবে লক্ষ্য রেখে কয়েকটা আর্টিকেল ছাপানোর সাথে সাথেই কেউ এসে পকেটে টাকা ভরে দিয়ে যায় না। এটা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ একটি ব্যাপার।

ব্লগ থেকে টাকা আয় সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে ঐ ব্লগে আগত ভিজিটরদের ওপর। শুধুমাত্র ভিজিটরদের মাধ্যমেই ব্লগ থেকে টাকা আয় সম্ভব। আর এমনি এমনি কোনো ব্লগেই ভিজিটর আসেনা। অধিক সংখ্যক ভিজিটর পেতে দরকার অসাধারণ কিছু কনটেন্ট। তাই ব্লগ থেকে ইনকাম করতে চাইলে ভালো ভালো কনটেন্ট বা আর্টিকেল ব্লগে নিয়মিত প্রকাশ করা চালিয়ে যেতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

বাংলা ভাষায় সঠিক পদ্ধতিতে ব্লগিং শুরু করলে ট্রাফিক সংক্রান্ত ভালো ফলাফল পেতে প্রায় ৩ থেকে ৬ মাস এবং উপার্জন সংক্রান্ত ভালো ফলাফল পেতে প্রায় ১ থেকে ৩-৪ বছর লেগে যেতে পারে।

ভয় পেয়ে গেলে? লিখালিখি শখের তালিকায় না থাকলে শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে ব্লগিং করতে চাইলে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। এইজন্যই লিখার শুরুটা ‘লিখালিখি কি তোমার শখ?’ প্রশ্ন দিয়ে শুরু করেছি। তবে একটা আশার কথা হলো, একবার কোনো ব্লগে অর্গানিক ভিজিটর আসতে শুরু করলে ধীরে ধীরে ভিজিটরের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। পাশাপাশি বাড়তে থাকে আয়ও। তবে সেজন্য প্রয়োজন সৎভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার।

শেষকথা (ব্লগ লেখার নিয়ম)

বাগান করার মতোই ব্লগিংও এক ধরণের শখ। বাগানের প্রতিটি গাছকে যেমন আদর করে, নিয়মিত পরিচর্যা করে, পানি দিয়ে গড়ে তুলতে হয়, ব্লগের একেকটা আর্টিকেলকেও সেভাবেই গড়ে তুলতে হয়। বাগানের মতো ব্লগও হুট করে একদিনেই ফুলে ফলে ভরে ওঠে না। প্রয়োজন হয় প্রচুর সময় ও পরিচর্যার।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই ব্লগিং কেন করবে, ব্লগ লেখার নিয়ম এবং ব্লগিং সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রাথমিক ধারণা পেয়ে গেছো। আশা করি, আজই কোনো ব্লগের সাথে যুক্ত হয়ে তুমি বাংলা ভাষায় লিখালিখি শুরু করে দেবে এবং নিজের স্কিল ও বাংলার তথ্যভান্ডার বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

6 thoughts on “ব্লগ লেখার নিয়ম এবং ব্লগিং সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা”

  1. নিজেদের ব্লগ খুলেও ফেললেন দেখছি। ট্রিটও কি ইমেইল করবেন?😂

  2. আমার লেখালেখি করতে বেশ ভালো লাগে, তবে আমার ব্যাক্তিগত ডায়েরিতেই সীমাবদ্ধ,তবে বেশ কয়েকদিন ধরেই আমার নিজের লেখা মনোভাব অভিব্যাক্তি প্রকাশ করার তীব্র ইচ্ছে জন্ম নিয়েছে, আমাকে বেশ কয়েক জন সাজেস্ট করেছে ফেসবুকে নিজের পেজ খুলে আমার ইচ্ছাকে বাস্তবিক রূপ দেওয়া যেতে পারে,কেউ কেউ বলছে আমি ব্লগিং কেন শুরু করি না,আমি ব্লগিং বিষয়টাতে একেবারে নতুন,একজন ব্লগার হিসেবে পথ চলতে এবং আমার লেখনীকে সবার সামনে আকর্ষণীয় করে তুলতে কী কী করা উচিত,যদি কোনো টিপস দিতেন তবে উপকৃত হবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *