ভালো ল্যাপটপ কেনার উপায় এবং বিস্তারিত গাইডলাইন

ভালো ল্যাপটপ কেনার উপায় এবং বিস্তারিত গাইডলাইন

মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে ল্যাপটপের চাহিদা তলানি থেকে তুঙ্গে উঠে এসেছে। আগের মতো শুধুমাত্র ব্যবসার কাজে নয়, বরং মানুষ এখন ল্যাপটপ কিনছে পড়াশোনা, গেম খেলা, প্রোগ্রামিং, ছবি ও ভিডিও ইডিট, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, এমনকি মুভি দেখার জন্যেও। এখানে একটি ভালো ল্যাপটপ কেনার উপায় সমূহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

চাহিদা খুব বেশি থাকায় বাজারে টিকে থাকার জন্য ল্যাপটপ তৈরিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মডেল বাজারে আনছে। যার ফলে, ল্যাপটপ কিনতে গেলে এতো বেশি অপশনের মধ্যে দ্বিধান্বিত হয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ল্যাপটপের দাম দেখে বিচারকার্যের সমাপ্তি ঘোষণা করে অনেকে। অথচ দাম যেটার বেশি, জিনিস সেটা সবসময়ই ভালো হবে, ল্যাপটপের ক্ষেত্রে এমন ধারণা সঠিক নয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বর্তমানে বাজারে থাকা Asus Vivobook 15 এর দাম ৯২ হাজার টাকা প্রায়। অন্যদিকে, Acer Asphire 7 এর মুল্য ৮০ হাজার টাকা।

আপনার ল্যাপটপ কেনার কারণ গেম খেলা হলে, বেশি দাম হওয়া সত্ত্বেও Vivobook 15 আপনার জন্য সেরা চয়েজ হবে না। কারণ, এর ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড মাত্র ২ জিবির, অন্যদিকে Aspire 7 এর ৪ জিবি।

পুরো আর্টিকেলটি পড়ে ফেলার পর যেকোনো ল্যাপটপের স্পেসিফিকেশন দেখে আপনি একাধিক ল্যাপটপের সাথে তুলনা করতে পারবেন এবং বাজেটের মধ্যে থেকে কিনতে পারবেন সেরা ল্যাপটপটি।

Operating System (OS)

ল্যাপটপ কেনার সময় সঠিক অপারেটিং সিস্টেম দেখে কেনা প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাজারের বেশিরভাগ ল্যাপটপ এই তিন ধরণের যেকোনো একটি অপারেটিং সিস্টেমের হয়ে থাকে — উইন্ডোজ, ম্যাক এবং লিন্যাক্স।

যারা প্রথমবারের মতো কোনো ল্যাপটপ কিনছেন, তাদের জন্য এই ধাপটি কঠিন মনে হতে পারে। তাই এখানে জনপ্রিয় কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেমের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা উল্লেখ করা হলো।

১। Windows

উইন্ডোজ ১১ সহ ভালো ল্যাপটপ কেনার উপায়
Photo by Sunder Muthukumaran on Unsplash

সবচেয়ে বেশি সহজ এবং জনপ্রিয় অপারেটং সিস্টেম হলো উইন্ডোজ। বাজারের বেশিরভাগ ল্যাপটপে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। উইন্ডোজের সর্বশেষ সংস্করণটি হলো উইন্ডোজ ১১।

বেশিরভাগ কম্পিউটার সফটওয়্যারকেই উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের উপযোগী করে তৈরী করা হয়। যারা পড়াশোনা, ব্যবসা কিংবা বিনোদনের জন্য ল্যাপটপ কিনবেন, তাদের জন্য এই অপারেটিং সিস্টেমের ল্যাপটপগুলো নিঃসন্দেহে সেরা হতে চলেছে।

পাশাপাশি, যারা গেম খেলার জন্য ল্যাপটপ কিনতে চান, তাদের জন্যেও উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের কোনো বিকল্প বাজারে নেই। কারণ খুব কম গেমই আছে, যেগুলো অন্য অপারেটিং সিস্টেমে সাপোর্ট করবে। বেশিরভাগ জনপ্রিয় গেম উইন্ডোজকেন্দ্রিক।

২। MacOS

ভালো ম্যাকবুক ল্যাপটপ কেনার উপায়
Photo by Dmitry Chernyshov on Unsplash

শুধুমাত্র MacBook ল্যাপটপেই অ্যাপল কোম্পানির নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম MacOS থাকে। MacOs-এ আইপ্যাডের সকল সফটওয়ার চালানো যায়। ব্যবহারকারী হাতের Apple Watch দিয়ে তার MacBook আনলক করতে পারে এবং আইফোনের ম্যাসেজ ও কলও ল্যাপটপে রিসিভ করতে পারে।

এগুলো সম্ভব হয়েছে ম্যাকবুকের MacOs অপারেটিং সিস্টেমের জন্য। যারা অ্যাপল কোম্পানীর ভক্ত অথবা যাদের ইতিমধ্যেই অ্যাপলের মোবাইল ও ঘড়ি রয়েছে, তাদের জন্য MacOS এর বিকল্প নেই। তবে MacOs এর দাম উইন্ডোজের তুলনায় অনেক বেশি।

৩। Linux

লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম সহ ভালো ল্যাপটপ কেনার উপায়
Image by rockiger from Pixabay

লিন্যাক্স একটি সম্পুর্ন ফ্রি Open Source অপারেটিং সিস্টেম। অর্থাৎ উইন্ডোজের মতো টাকা খরচ করে এটি কিনতে হয় না৷ কম্পিউটার ম্যালওয়্যার ও ভাইরাসের আক্রমন থেকে লিন্যাক্স অনেক বেশি নিরাপদ।

এই অপারেটিং সিস্টেমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে সব ধরণের কোডিং ল্যাংগুয়েজ সাপোর্ট করে। তাই এটি প্রোগ্রামারদের জন্য প্রবলভাবে রিকমেন্ডেড।

বলাবাহুল্য, লিন্যাক্স উইন্ডোজের মতোই অনেক বেশি ভরসাযোগ্য এবং পার্ফোমেন্সের দিক থেকে উইন্ডোজের চেয়েও এগিয়ে। তবে যারা প্রথমবারের মতো ল্যাপটপ কিনছেন কিংবা গেম খেলা বা বিনোদন যাদের প্রায়োরিটি লিস্টের একদম উপরে রয়েছে, তাদের জন্য লিন্যাক্সের বদলে, প্রথমে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা বেশি সুবিধাজনক। কারণ উইন্ডোজের ব্যবহার জটিলতামুক্ত।

৪। Chromebook

উপরের তিনটি ছাড়াও আরো কিছু অপারেটিং সিস্টেম আছে, যেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং আলোচিত একটি হলো Chromebook ।

Chromebook ল্যাপটপগুলো গুগলের ChromeOS দিয়ে চলে, যেটা উপরের তিনটি অপারেটিং সিস্টেম হতে পুরোপুরি ভিন্ন। বাজারে হাতে গোণা অল্প কয়েকটি মডেলে Chromebook পাওয়া যায়। যেমন HP, Samsung ও Acer এর কিছু মডেল এবং গুগলের Pixelbook সিরিজের ল্যাপটপ।

ক্রোমবুকে বেশিরভাগ সাধারণ সফটওয়্যারই চালানো যায় না। এখানে শুধুমাত্র Chrome, Google Drive, Google Maps ইত্যাদী এর মতো গুগলের ওয়েব এপ্লিকেশনগুলোই চালানো যায়।

Laptop Screen

Display Type আইপিএস (IPS) ধরণের এবং সাইজের দিক থেকে ১৩ থেকে ১৪ ইঞ্চি স্ক্রিন এর ল্যাপটপগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যবহার উপযুক্ত। আপনি যদি ল্যাপটপ নিয়ে প্রায়ই ভ্রমণে বের হন কিংবা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘরের বাইরে আনতে চান, তবে আপনার জন্য এই স্ক্রিন সাইজের ল্যাপটপগুলো দারুন হবে।

তবে ল্যাপটপের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্ক্রিন সাইজ ১৫ থেকে ১৬ ইঞ্চির মধ্যে। এগুলো ল্যাপটপের ওজন সাধারণত একটু বেশি হয়। যারা ল্যাপটপ সঙ্গে নিয়ে বাইরে খুব বেশি যেতে চান না, তাদের জন্য এই সাইজটাই সেরা।

এছাড়াও ১১ থেকে ১২ এবং ১৭ থেকে ১৮ ইঞ্চিরও ল্যাপটপ রয়েছে। সেগুলো যথাক্রমে রাফ ইউজ এবং গেমিং এর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। প্রয়োজন অনুসারে সেগুলো কেনাও লাভজনক হতে পারে।

বলে রাখা ভালো, গেমিং ল্যাপটপ এবং বিজনেস ল্যাপটপ গুলো সাধারণত যথাক্রমে বেশি ভারী এবং হালকা হয়ে থাকে। তাই কেনার সময় এই বিষয়ের দিকে নজর রাখা উচিৎ।

রেজুলেশন

ল্যাপটপের রেজুলেশন যত বেশি হবে, ডিসপ্লেতে তত সুন্দর ও স্পষ্ট ছবি আপনি দেখতে পারবেন। মোটামুটি মানের বেশিরভাগ ল্যাপটপই 1366 x 768 রেজুলেশনের হয়ে থাকে। তবে, সুন্দর ছবির জন্য 1600 x 900 অথবা 1920 x 1080 সাইজের রেজুলেশন খুঁজে দেখুন। এগুলো সাধারণত তুলনামূলকভাবে বড় সাইজের ল্যাপটপে থাকে।

অনেক সস্তা স্ক্রিনের ল্যাপটপ আছে, যেগুলো সুর্যের আলোতে ঠিকমতো দেখাই যায় না। এরকম ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকা বাঞ্চনীয়।

কীবোর্ড ও টাচপ্যাড

সাধারনত ল্যাপটপ কেনার সময় কীবোর্ড এবং টাচ প্যাডকে আমরা খুব বেশি গুরুত্ব দেই না৷ যার ফলে পরবর্তীতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়৷

তাই ল্যাপটপ কেনার সময় অবশ্যই কিবোর্ডের বাটন এবং টাচপ্যাডের অবস্থা দেখে নিবেন৷ ট্যাচপ্যাডে মাল্টি টাচ ও গ্যাশ্চার ফিচার থাকা বাঞ্চনীয়৷

ল্যাপটপ কেনার পর বাসায় ব্যবহারের সময় ল্যাপটপের নিজস্ব কিবোর্ড ও টাচ প্যাড ব্যাবহার না করে এক্সাটার্নাল কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ৷

CPU

CPU কে কম্পিউটারের ব্রেইনের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই ল্যাপটপ কেনার সময় সিপিইউ এর ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। প্রযুক্তি যত সামনে আগাচ্ছে, তুলনামুলকভাবে পুরোনো প্রযুক্তিগুলো তত বেশি ময়লার ভাগাড়ে পতিত হচ্ছে।

কিছু CPU এর কয়েকটা Chips আছে, যেগুলো এই সময়ে এসে কেনার কোনো মানেই হয়না। যেমন: আপনি যদি সিপিউ হিসেবে Intel পছন্দ করেন, তবে Celeron, Atom কিংবা Pentium এর মতো Chips গুলো থেকে অবশ্যই দূরে থাকবেন। কারণ এগুলো Chips অত্যন্ত স্লো এবং অনেকক্ষেত্রে ব্যবহার অনুপযুক্ত।

এগুলোর বদলে Intel এর Core i3, i5, i7 অথবা সর্বশেষ সংযোজন i9 CPUs ব্যবহার করুন। বলে রাখা ভালো, ” i ” পর সংখ্যা যত বড়, প্রসেসরের মান তত বেশি উৎকৃষ্ট এবং Chip টি ততই আপডেট।

একইভাবে, যদি আপনি AMD এর প্রসেসর ব্যবহার করতে চান, তবে চোখ বন্ধ করে C অথবা E সিরিজের প্রসেসর ইগ্নোর করুন। এগুলোর বদলে A6 অথবা A8 এর প্রসেসর নিতে পারেন।

ইন্টেল এবং এএমডি এর মধ্যে বেশিরভাগ দিক থেকে এএমডি এগিয়ে রয়েছে৷ তবে যারা গেম খেলার জন্য ল্যাপটপ কিনতে চাইছেন, তাদের জন্য ইন্টেলের প্রসেসর কেনার পরামর্শ থাকবে৷ কারন ইন্টেলের প্রসেসর একটু দ্রুত গরম হলেও পার্ফোমেন্স অনেক ভালো৷

RAM

একটা ল্যপটপের র‍্যাম যত বেশি হয়, তত ভালো Performance পাওয়া যায়। বর্তমান সময়ে ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে ৮ জিবির কম র‍্যামওয়ালা ল্যাপটপ নেয়া উচিৎ নয়। বাংলাদেশের বাজারে ৫০ হাজার টাকা থেকে ৮ জিবি র‍্যামের ল্যাপটপ দেখতে পাওয়া যায়।

তবে, যেই র‍্যামের ল্যাপটপই কেনা হোক না কেন, র‍্যামের জন্য এক্সট্রা ফাঁকা স্লট আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। কারন পরবর্তীতে Performance আরো ভালো করার জন্য কিংবা ভারী ভারী সফটওয়্যার চালানোর জন্য আরো বেশি র‍্যামের প্রয়োজন হতে পারে। র‍্যামের জন্য আলাদা এক্সট্রা স্লট না থাকলে সেই সুবিধা পাওয়া যাবে না।

Storage Drive

অনেকের মতে, ভালো পার্ফোমেন্সের জন্য CPU এর চেয়েও Storage Drive এর প্রকৃতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে দুই ধরণের স্টোরেজ ড্রাইভ পাওয়া যায়। সেগুলো হলো SSD এবং HDD। যদি বাজেটের ভেতর কোনো SSD (Solid State Driver) পাওয়া যায়, তবে HDD এর দিকে তাকানোরই দরকার নেই।

SSD নিলে আপনার ল্যাপটপের স্পিড কমপক্ষে ৩ গুণ বেশি পাবেন। তবে, SSD এর দাম কিছুটা বেশি। একই বাজেটে SSD এর ল্যাপটপে যদি ২৫০ জিবি স্টোরেজ থাকে, তবে HDD এর ল্যাপটপে থাকবে ১ টেরাবাইট। এক্ষেত্রে কনফিউজড হওয়ার কিছু নেই। নির্দ্বিধায় SSD টাই ভালো অপশন হতে যাচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে কিছু ল্যাপটপে SSD এবং HDD দুই ধরণের স্টোরেজই থাকে। এরকম ল্যাপটপও নেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে SSD তে ল্যাপটপের উইন্ডোজ রেখে HDD তে অন্যকিছু রাখতে পারেন। তবে স্টোরেজের ক্ষেত্রেও বাড়তি স্লট আছে কিনা জেনে নিতে হবে। বাড়তি স্লটটা যদি SSD এর জন্য উপযোগী হয় থাকে, তাহলে তো আরো ভালো।

Available Ports

ল্যাপটপ কেনার আগে তাতে কয়টা USB পোর্ট আছে, সেটা দেখে নেয়া উচিৎ। যদি আপনি ল্যাপটপে মাউস এবং কিবোর্ড আলাদা আলাদাভাবে ব্যবহার করতে চান, তাহলে অন্তত দুইটা USB আছে কিনা দেখে নিন। অনেকে ল্যাপটপের সঙ্গে টিভি কানেক্ট করতে চায়। সেক্ষেত্রে একটা HDMI অথবা VGA পোর্ট দরকার হবে।

এছাড়াও পরবর্তীতে প্রিন্টার, এক্সটার্নাল ড্রাইভসহ ইত্যাদী ব্যবহার করতে চাইলে সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পোর্ট আছে কিনা দেখে নিন।

Graphics Chip

যারা ল্যাপটপে গেইম একদমই খেলতে চান না, কিন্তু 3D Object তৈরী, ভিডিও ইডিটিং ও ফটো ইডিটিং এর মতো কাজ করতে চান, তাদের জন্য integrated graphics chip একদম উপযুক্ত।

আর যদি গেমিং কিংবা ভারী গ্রাফিক্সের কাজ করতে চান, তবে Dedicated graphics card এর বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। এটা ছাড়া গেইম খেলতে যাওয়া অস্ত্র ছাড়া যুদ্ধে যাওয়ার মতো ব্যাপার।

বাজারে বিভিন্ন ধরণের গ্রাফিক্স চিপের ল্যাপটপ আছে। এর মধ্যে, Nvidia এর Nvidia MX450 ও GTX 1660 হলো সর্বনিম্ন মডেলের গ্রাফিক্স চিপ, RTX 2050 ও RTX 2060 মিডিয়াম এবং RTX 3070 ও 3080 GPus সর্বোচ্চ।

ল্যাপটপ যদি শুধুমাত্র গেমিং এবং স্ট্রিমিং এর জন্য কেনা হয়, তবে অন্তত মিডিয়াম অথবা সর্বোচ্চ গ্রাফিক্স চিপ ব্যবহার করা উচিৎ। তাছাড়া ভালো গ্রাফিক্স আশা করা বোকামী।

যদি ল্যাপটপ কেনার পেছনে মুল উদ্দেশ্য গেমিং না হয়, কিন্তু অবসরে GTA 5 এর মতো মিডিয়াম গ্রাফিক্সের কিছু গেম খেলার ইচ্ছা থাকে, তবে সর্বনিম্ন গ্রাফিক্স চিপ দিয়েও ভালো আউটপুট পাওয়া যাবে। কিন্তু এই ধরণের চিপে Warzone টাইপের হেভি গেম ল্যাগবিহীনভাবে খেলা সম্ভব নয়।

আর যদি কেউ গেমিং ও গ্রাফিক্স এর কাজের দিকে একদমই যেতে না চায়, তাহলে তার জন্য Integrated graphics chips এর ল্যাপটপ তো আছেই। অনেক কম দামে এধরণের ল্যাপটপ পাওয়া যায়।

ব্যাটারী

যারা বেশিরভাগ সময় ঘরের ডেস্কে বসে ল্যাপটপ কাজ করতে চায়, তাদেরকে ব্যাটারী ব্যাকআপ নিয়ে না ভাবলেও চলবে। কেননা, তারা সবসময়ই বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারবে।

কিন্তু যাদেরকে ল্যাপটপ সঙ্গে নিয়ে বাইরে বেশি বের হতে হবে, তাদের উচিৎ কেনার আগে ঐ ল্যাপটপের ব্যাটারী ব্যাকআপ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেয়া। এক্ষেত্রে কোম্পানীর দাবী করা ব্যাকআপের উপর ভরসা না করে অনলাইন বিভিন্ন পোর্টালে ঐ মডেলের ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের রিভিউ দেখে নেয়া প্রয়োজন।

বলে রাখা ভালো, মোবাইল চার্জে দিয়ে ব্যবহার করলে ব্যাটারীর অনেক বেশি ক্ষতি হলেও ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ব্যাপারট ঠিক এর উলটো। ল্যাপটপ চার্জে দিয়ে ব্যবহার করলে ব্যাটারির উপর চাপ কম পড়ে এবং পার্ফোমেন্সও অনেক ভালো দেয়।

ব্র‍্যান্ড ভ্যালু

ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে ব্র‍্যান্ডের চেয়ে নির্দিষ্ট মডেল এবং কিছু ক্ষেত্রে সিরিজকে গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। কারণ কোনো ব্র‍্যান্ডেরই সব ল্যাপটপ সমানভাবে ভালো হয়না। প্রতিটি ব্র‍্যান্ডেরই কিছু ল্যাপটপ থাকে, যেগুলো বাজারে খুব দ্রুত পরিচিত হয়ে যায় এবং বেশি বিক্রি হয়।

আপনার বাজেট রেঞ্জে কি কি ব্র‍্যান্ডের কোন কোন মডেল এরকম দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে অনলাইনে তার খোঁজ নিন। তারপর স্পেসিফিকেশন ধরে ধরে তুলনা করুন।

তবে, কেনার পরের সার্ভিস অর্থাৎ ল্যাপটপে কোনো সমস্যা হলে আপনার এলাকায় কোন ব্র‍্যান্ডের ল্যাপটপের সার্ভিসিং সিস্টেম কেমন, সেটা দেখেশুনে ল্যাপটপ কিনবেন।

সার্ভিসিং সুবিধার দিক থেকে বাংলাদেশে Asus অবশ্যই সামনের সারির প্রথম দিকে থাকবে। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্র‍্যান্ড দেখে কোনো একটি মডেলের ল্যাপটপকে যাচাই করার পক্ষপাতি নই, তবুও কিছু জনপ্রিয় ব্র‍্যান্ড সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণা নিচে তুলে ধরলাম।

বিভিন্ন ফোরামের রিভিউ অনুসারে, Dell এর ল্যাপটপ তুলনামূলকভাবে বেশিদিন টেকে, Asus এর ল্যাপটপগুলো ডিজাইনের জন্য বিখ্যাত এবং বেশি টেকসই, MSI কম দামে গেমিং ল্যাপটপের জন্য সেরা এবং Lenovo সবচেয়ে সস্তায় মোটামুটি মানের ল্যাপটপ তৈরীর জন্য বিখ্যাত।

শেষকথা

ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে অনলাইনের থেকে অফলাইন বেশি নিরাপদ। সম্ভব হলে ভালো এবং পরিচিত দোকান থেকে নিজে যেয়ে কিনে নিয়ে আসুন।

বলে রাখা ভালো, দোকানে যেয়ে ল্যাপটপ পছন্দ করে কিনবো – এরকম ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোন ল্যাপটপটা আপনার জন্য ঠিকঠাক তা বাসায় বসে অনলাইনেই যাচাই করে নিবেন এবং তারপরই দোকানে কিনতে যাবেন।

অফলাইনে দোকানের স্টাফদের কথায় প্রভাবিত হয়ে যেকোনো ল্যাপটপ কিনে নিয়ে চলে আসবেন না। কারণ, দোকানদাররা সব ব্র‍্যান্ড ও মডেলের ল্যাপটপ বিক্রি করে সমান মুনাফা পায় না। আপনাকে তারা সেই ল্যাপটপটাই দিতে চাইবে, যেটা বিক্রি করলে তাদের লাভ বেশি হবে।

যেকোনো ল্যাপটপের গেমপ্লে কেমন, কোন মডেলের ল্যাপটপটি বেশিদিন টিকছে, এসব তথ্য ইউটিউবে বিস্তারিত ভাবে পেয়ে যাবেন। সেগুলো দেখলে নির্দিষ্ট কোনো মডেল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ল্যাপটপ সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করুন। আশা করি লেখাটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন।

আরও পড়ুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *