গ্ৰিন টি পানের নিয়ম এবং এক্ষেত্রে যে ভুলগুলো আমরা প্রায়ই করি

গ্ৰিন টি পানের নিয়ম সম্পর্কে টুকটাক ধারণা সকলেরই আছে। তবে এ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান খুব কম মানুষই রাখেন। কিভাবে তৈরি করবেন এক কাপ পারফেক্ট গ্ৰিন টি? এবং গ্ৰিন টি পানের সঠিক সময় এবং পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ে ফেলুন নিচের লেখাটি।

গ্ৰিন টি পানের নিয়ম জানা প্রয়োজন কেন?

নিয়মগুলো জানার আগে জেনে নিন নিয়মগুলো জানা কেন প্রয়োজন। গ্ৰিন টি অনেকের কাছেই জঘন্য একটা পানীয়। অনেকে আবার কাঙ্ক্ষিত উপকারিতার পরিবর্তে পড়ে যান বিভিন্ন ভোগান্তিতেও। এর কারণ হলো গ্ৰিন টি পানের নিয়ম গুলো না জানা।

গ্ৰিন টি তৈরির সময়ও বেশ কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। নইলে হারিয়ে ফেলতে পারেন গ্ৰিন টি এর প্রপার ফ্লেভারটাই! নির্দিষ্ট নিয়মগুলো না মানলে আপনার গ্ৰিন টি পানের উদ্দেশ্য কতটা সফল হবে তাও নিশ্চিত করে বলা যায় না।

ভালো ব্র্যান্ড বাছাই করা গ্ৰিন টি উপভোগের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। বাজারে বিভিন্ন ব্রান্ডের গ্ৰিন টি পাবেন। যাচাই বাচাই করে বেস্ট ব্রান্ডটিই বেছে নিন।

গ্ৰিন টি পানের নিয়ম

গ্ৰিন টি পানের নিয়ম
ফিট থাকতে গড়ে তুলুন নিয়ম মেনে গ্ৰিন টি পানের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। চিত্রসূত্র: Pixels.com

গ্ৰিন টি পানের নিয়ম গুলোকে ৩ টি ধাপে ভাগ করা যেতে পারে।

  • গ্ৰিন টি তৈরি
  • গ্ৰিন টি পানের সময়
  • গ্ৰিন টি পানের পরিমাণ

গ্ৰিন টি তৈরি

গ্ৰিন টি পানের নিয়ম জানার আগে গ্ৰিন টি তৈরির নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

এক কাপ পারফেক্ট গ্ৰিন টি এর জন্য সঠিক তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পানি বেশি গরম হলে গ্ৰিন টি হয়ে যায় তিক্ত স্বাদের। সেইসঙ্গে গ্ৰিন টি হারিয়ে ফেলে তার নিজস্ব সুবাসও।

গ্ৰিন টি তৈরির জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা হলো ৭৫-৮০ ডিগ্ৰি সেলসিয়াস। পানি ১০০ ডিগ্ৰি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে। এজন্য পানিতে ছোট ছোট বুদবুদ দেখা দিলে পানি ফোটার আগেই তা নামিয়ে ফেলুন। এক্ষেত্রে ফিল্টার করা বা বোতলজাত খনিজ পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

যদি টি ব্যাগ ব্যবহার করেন তবে পানি ২-৩ মিনিট এবং চা পাতার জন্য ৩-৪ মিনিট ধরে মৃদু-মাঝারি আচে সিদ্ধ করুন। চায়ের সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান যোগ করেও আপনি আপনার গ্ৰিন টি তে আলাদা ফ্লেভার আনতে পারেন। শুধু ফ্লেভার নয় এতে আপনার গ্ৰিন টি-তে কিছু গুণাগুণও যোগ হবে।

৩ টি পারফেক্ট গ্ৰিন টি রেসিপি

রেসিপি-১

উপকরণ:

  • ১ টি গ্ৰিন টি ব্যাগ/পাতা ১ চামচ (প্রতি এক কাপ পানির জন্য ১টি গ্ৰিন টি ব্যাগ বা ১ চামচ গ্ৰিন টি পাতা)
  • ১ কাপ পানি
  • ১ চা চামচ মধু
  • কয়েক ফোঁটা লেবুর রস

প্রণালি:

  1. প্রথমে একটি টি প্যানে পানি গরম করে নিন।
  2. ছাঁকনিতে ১ চামচ গ্ৰিন টি পাতা নিয়ে একটি ফাঁকা কাপের মুখে রাখুন।
  3. এবার তার মধ্যে দিয়ে গরম পানি ঢালুন এবং ২-৩ মিনিট চা পাতা ভিজতে দিন। টি ব্যাগ হলে তা সরাসরি কাপের গরম পানিতে ২-৩ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
  4. এবার তাতে মধু ও লেবুর রস যোগ করে পরিবেশন করুন।
রেসিপি-২

উপকরণ:

  • ১/২ টেবিল চামচ গ্ৰিন টি পাউডার
  • ১ কাপ পানি
  • ২ টেবিল চামচ মধু
  • ১ টুকরো লেবু

প্রণালি:

  • পানিতে গ্ৰিন টি পাউডার মিক্স করুন।
  • গ্ৰিন টি পাউডার টি প্যানের তলায় না পড়া পর্যন্ত পানি সিদ্ধ করতে থাকুন।
  • এবার একটি কাপে গ্ৰিন টি ছেঁকে নিন।
  • মধু ও লেবু দিয়ে পরিবেশন করুন।
রেসিপি-৩

উপকরণ:

  • গ্ৰিন টি ব্যাগ ১টি/ গ্ৰিন টি পাতা ১ চামচ
  • পানি ১ কাপ
  • সামান্য আদা/ আদা গুঁড়ো

প্রণালি:

  1. একটি টি প্যানে পানি গরম করে নিন।
  2. গ্ৰিন টি পাতা এবং আদা/আদা গুঁড়ো একটি ছাঁকনিতে নিয়ে তা ফাঁকা একটি গ্লাসের উপর রাখুন।
  3. এবার চা পাতা ও আদা গুঁড়ো রাখা ছাঁকনির উপর দিয়ে গরম পানি ঢালুন এবং ২-৩ মিনিট ভিজতে দিন। টি ব্যাগ হলে গরম পানির মধ্যেই আদা/ আদা গুঁড়ো এবং টি ব্যাগ ভিজিয়ে ২-৩ মিনিট পর ছেঁকে নিন।
  4. চা কিছুটা ঠান্ডা করে এরপর পরিবেশন করুন।

গ্ৰিন টি পানের সঠিক সময়

গ্ৰিন টি পানের জন্য ৫ টি সময় সবচেয়ে বেশি উপযোগী। এই সময়গুলো মেনে গ্ৰিন টি পান করে কোন ক্ষতির আশঙ্কা ছাড়াই গ্ৰিন টি এর গুণাগুণ সম্পূর্ণভাবে নিংড়ে নিতে পারেন।

সকাল বেলা

সকাল সকাল গ্ৰিন টি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। গ্ৰিন টি পানের আদর্শ সময় সকাল ১০-১১ টা। এছাড়া সকালবেলা গ্ৰিন টি পানের মাধ্যমে দিনটা স্বাস্থ্যকরভাবে শুরু করলে সারাদিন আপনার স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখার প্রবণতাও বাড়বে।

সন্ধ্যা বেলা

দিনশেষে আমাদের দেহের মেটাবলিজম অনেকাংশেই কমে যায়। তাই সেসময় গ্ৰিন টি পান করে মেটাবলিজমের মাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে। এটি গ্ৰিন টি পানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। তবে যাদের ঘুম নিয়ে সমস্যা হয় তাদের জন্য এই সময়টা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

খাওয়ার অন্তত ১ ঘন্টা পর

গ্ৰিন টি দেহের বিপাকীয় হার বাড়িয়ে ক্যালরি ঝরাতে সাহায্য করে। তাই বলে খাওয়ার পর পরই গ্ৰিন টি পান করা উচিত নয়। খাওয়ার ১-২ ঘন্টা পরে নিয়মিত গ্ৰিন টি পান করা হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারে আসে।

ব্যায়ামের অন্তত আধ ঘন্টা আগে

ব্যায়ামের ৩০-৪৫ মিনিট আগে গ্ৰিন টি পান করলে এক্সট্রা এনার্জি পাওয়া যায়। এটি দেহের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এতে ক্যালরি ঝরার হারও বেড়ে যায়।

ঘুমানোর অন্তত ২ ঘন্টা আগে

দেহে বিপাকের হার বাড়াতে ঘুমানোর ২ ঘন্টা আগে গ্ৰিন টি পান করা সবচেয়ে উপকারী। যদি আপনি ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে গ্ৰিন টি পান করে থাকেন তবে আপনার জন্য এই সময়টাই বেস্ট। গ্ৰিন টি ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো কাজ করে যতক্ষণ আপনি গ্ৰিন টি পানের পর আর অন্যকিছু খাবেন না। এজন্য রাতের খাবারের অন্তত ১ ঘন্টা পর এবং ঘুমানোর ২ ঘন্টা আগে নিয়মিত গ্ৰিন টি পানের অভ্যাস করুন। যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তাদের জন্য এই সময়টা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

দিনে কত কাপ গ্ৰিন‌ টি পান করা নিরাপদ?

দিনে ৩ কাপ গ্ৰিন টি পান করা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। একদিনে ৫ কাপের বেশি গ্ৰিন টি পান করা একদমই উচিত নয়। এর চেয়ে বেশি মাত্রায় গ্ৰিন টি পান দেহে নানা জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

যেমন:

  1. অতিরিক্ত গ্ৰিন টি পান করা হলে দেহে আয়রনসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শোষন ঠিকভাবে হতে পারে না। এতে শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যাথা বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
  2. খুব বেশি মাত্রায় গ্ৰিন টি পানের কারণে রেগে যাওয়া বা নার্ভাসনেসের মতো সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  3. অতিরিক্ত গ্ৰিন টি পান লিভার ও কিডনির ক্ষতির জন্য কিছুটা হলেও দায়ী।
  4. খুব বেশি মাত্রায় গ্ৰিন টি পান উচ্চরক্তচাপ অনেক ক্ষেত্রে বাড়িয়ে দেয়। এবং সেইসাথে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা কিছু মেডিসিনের কার্যকারিতাও কমিয়ে দিতে পারে।
  5. যেহেতু গ্ৰিন টি তে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, পলিফেনল ও সামান্য ক্যাফেইন থাকে তাই অতিরিক্ত গ্ৰিন টি পান এসিডিটি ও বদহজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
  6. গ্ৰিন টি তে থাকা বেশ কয়েকটি উপাদান দেহে ক্যালসিয়াম শোষণে বাঁধা দেয়। একারণেই অতিরিক্ত গ্ৰিন টি পান হাড়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে হাড়ের রোগে ভোগা রোগীদের অস্টিওপোরসিসের মতো রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
  7. অনেকটা বিরল হলেও অধিক মাত্রায় গ্ৰিন টি পান দেহে রক্তপাতের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। গ্ৰিন টি তে থাকা কিছু উপাদান ফ্রাইবিনোজেন (এমন এক ধরনের প্রোটিন যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে) এর পরিমাণ কমিয়ে দেয় বলেই এমনটা ঘটে।

গ্ৰিন টি পানের ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো সচরাচর করা হয়

  1. অনেকে খাওয়ার পর পরই বা খাওয়ার মাঝখানে গ্ৰিন টি পান করেন। এমনটা করা একদমই উচিত নয়। এতে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া এর ফলে দেহে আয়রন শোষণও বাঁধা পেতে পারে।
  2. দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার যেমন: মিষ্টি, পায়েস বা ক্ষীর খাওয়ার ঠিক পরেই গ্ৰিন টি পান করা ঠিক নয়। দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পর গ্ৰিন টি পান হজমে মারাত্মক গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
  3. খালি পেটে গ্ৰিন টি পান করা হলে এতে থাকা ক্যাটেচিন লিভারের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এছাড়া এসিডিটি , আলসার, বমি বমি ভাব বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য কখনোই খালি পেটে গ্ৰিন টি পান করা উচিত নয়।
  4. গ্ৰিন টি পানের নিয়ম অনুযায়ী পরিবেশনের সময় চিনি বা গুঁড়ো দুধ মেশানো একদমই অনুচিত। গ্ৰিন টি তে এগুলো মেশানো হলে এর স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ আর ঠিক থাকে না।
  5. অফিসের তাড়ায় তাড়াহুড়ো করে গ্ৰিন টি পান করেন অনেকেই। কিন্তু দ্রুত চা পান করা হলে ব্রেইন এর কার্যক্ষমতা বা বিপাক ক্রিয়ার হার তেমন বাড়তে পারে না। এজন্য গ্ৰিন টি পান করা উচিত ধীরে সুস্থে‌, বেশ খানিকটা সময় নিয়ে।
  6. গ্ৰিন টি পানের নিয়ম অনুযায়ী এটি পান করা উচিত কুসুম গরম। পানি অতিরিক্ত গরম হলে গ্ৰিন টি তার নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ হারায়। একারণেই গ্ৰিন টি তৈরির সময় পানি ফোটানো হয় না। তাছাড়া চা পানের সময় অতিরিক্ত তাপের কারণে গলা বা পাকস্থলী ক্ষতিগ্ৰস্থ হতে পারে। এজন্য গ্ৰিন টি কুসুম গরম অবস্থায় পান করাই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।
  7. অনেকে গ্ৰিন টি পানের ঠিক আগে বা পরেই মেডিসিন খান। অনেকে আবার মেডিসিন খান গ্ৰিন টি দিয়েই ! যা স্বাস্থ্যের জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর। মেডিসিনে উপস্থিত রাসায়নিক পদার্থ গ্ৰিন টি এর উপাদানগুলোর সাথে মিশে অ্যাসিডিটিসহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
  8. অনেকের ধারণা পানিতে বেশি সময় ধরে গ্ৰিন টি পাতা ভিজিয়ে রাখলে তা থেকে বেশি পুষ্টি উপাদান পাওয়া যাবে। ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল! বরং তাতে গ্ৰিন টি এর আসল স্বাদটাই নষ্ট হয়ে যায়।
  9. গ্ৰিন টি তে মধু মেশাতে পছন্দ করেন অনেকেই। কারণ মধু হলো চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প যা সুস্বাদুও। তবে অতিরিক্ত গরম পানিতে মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য চা কুসুম গরম পর্যায়ে এলে তারপর মধু মেশানো উচিত।
  10. বেশি উপকারের কথা চিন্তা করে অনেকে দুটি গ্ৰিন টি ব্যাগ ১ কাপ পানিতেই ডুবিয়ে দেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত এভাবে দুটি টি ব্যাগ দিয়ে গ্ৰিন টি পান করলে হজমের সমস্যা বা অ্যাসিডিটি হতে পারে।
  11. অনেকে কৃত্রিমতায় আকৃষ্ট হয়ে ফ্লেভারযুক্ত গ্ৰিন টি বেছে নেন। বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব গ্ৰিন টি তে কৃত্রিম উপায়ে ফ্লেভার যোগ করা হয়। এক্ষেত্রে এসব ফ্লেভারযুক্ত গ্ৰিন টি এড়িয়ে চলাই ভালো।
  12. অনেকে মাঝরাতে ঘুম ঘুম ভাব দূর করতে গ্ৰিন টি পান করেন। এটি স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। তাই কখনোই ঘুম কাটানোর উদ্দেশ্যে গ্ৰিন টি পান করা ঠিক নয়।

গ্ৰিন টি কি সবার জন্য নিরাপদ?

গ্ৰিন টি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হলেও কিছু ক্ষেত্রে গ্ৰিন টি পান করা বিপদজনক।

গর্ভাবস্থায়

যারা অন্তঃসত্ত্বা বা কনসিভ করার চিন্তা-ভাবনা করছেন তাদের জন্য অন্যান্য চা-র মতো গ্ৰিন টি পান করাও নিরাপদ নয়। গ্ৰিন টি পান করলে খুব সামান্য পরিমাণে হলেও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যাফেইন আপনার দেহে ঢুকে পড়বে। এছাড়া গ্ৰিন টি এর ট্যানিন অনাগত শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

রক্তস্বল্পতা থাকলে

গ্ৰিন টি তে থাকা ট্যানিন ক্ষুদ্রান্তের আয়রন এবং বি-১২ ভিটামিন শোষন কিছুটা কমিয়ে দেয়। এজন্য দেহে এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা থাকলে গ্ৰিন টি পান করা ঠিক নয়। এটি আপনার স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইনসোমনিয়া থাকলে

ইনসোমনিয়া বা ঘুমের সমস্যা হলে গ্ৰিন টি পান করা বন্ধ করুন। নিয়মিত গ্ৰিন টি পান করতে থাকলে আপনার ঘুমের পরিমাণ আরো কমে যাবে।

পেপটিক আলসার থাকলে

যাদের পেপটিক আলসারের সমস্যা আছে তাদের জন্য গ্ৰিন টি পান করা নিরাপদ নয়। এটি দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

গ্ৰিন টি পানের আগে গ্ৰিন টি পানের নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন। এতে শুধু যে আপনি গ্ৰিন টি এর উপকারিতা গুলো সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করতে পারেন তাই নয় বরং গ্ৰিন টি এর যে গুটিকয়েক ক্ষতিকর দিক আছে সেগুলোও এড়িয়ে যেতে পারেন খুব সহজে!

সম্পাদকের বাছাই-

3 thoughts on “গ্ৰিন টি পানের নিয়ম এবং এক্ষেত্রে যে ভুলগুলো আমরা প্রায়ই করি”

  1. ইউটিউবে দেখেছি দিনে 2 লিটারের বেশি পানি খাওয়া নাকি আসলে টিক না। এটা কি সত্যি?

    1. লাবনী আক্তার সেতু

      আমাদের সকলের দেহে পানির চাহিদা এক নয়। সে হিসেবে সবার ক্ষেত্রে ২ লিটার পানির বেশি পান করা নিরাপদ নয় এমনটা বলা ভুল হবে।
      তবে চাহিদার চেয়ে বেশি মাত্রায় পানি পান করলে দেহে লবণের মাত্রা কমে গিয়ে মাথাব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া, পেটে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।
      মানুষের দেহে পানির চাহিদা নির্ভর করে ব্যাক্তির বয়স, ওজন, উচ্চতা, দৈনিক গ্ৰহণ করা খাদ্যের ধরণ, দৈনিক পরিশ্রমের পরিমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর।
      এছাড়া দৈনিক দেহে পানির চাহিদা নির্ণয়ের সহজ একটি উপায় হলো ব্যাক্তির ওজনকে ৩০ দিয়ে ভাগ করা। ভাগফলটাই হবে ঐ ব্যাক্তির দেহে দৈনিক পানির চাহিদার পরিমাণ।
      দৈনিক প্রতি ৩০ মিনিট ওয়ার্ক আউটের জন্য তার সাথে যোগ হবে আরো ৭০০ মিলিলিটার।
      আমাদের দেহে পানির চাহিদার ২০-২৫% আসে দৈনিক গ্ৰহণ করা খাবার থেকে। তাই খাদ্যতালিকায় শাক-সবজি, ফল-মূলের পরিমাণ বেশি থাকলে এক্ষেত্রে আলাদা করে পানি পানের পরিমাণ কিছুটা কম হলেও চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *