মোবাইল দিয়ে ছবি ইডিট করার সেরা ১০ টি সফটওয়্যার

মোবাইল দিয়ে ছবি ইডিট করার সেরা ১০ টি সফটওয়্যার

কম্পিউটারে একটি ভালো ফটো ইডিটিং সফটওয়্যার দিয়ে সব ধরণের ছবি সমানভাবে ইডিট করা গেলেও, মোবাইলে তা সম্ভব নয়। এন্ড্রোয়েড এবং iOS ডিভাইসে একেক ধরণের ছবির জন্য একেকটি এ্যাপ বেশি কার্যকরী। এখানে মোবাইল দিয়ে বিভিন্ন ধরণের ছবি ইডিটের জন্য সেরা ১০ টি এ্যাপের বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে আছে, Snapseed, VSCO, Prisma, Adode Photoshop Express, Foodie, Adobe Lightroom, College Maker, Adobe Photoshop Fix, B612 এবং Visage এর মতো এ্যাপ। বেশিরভাগ এ্যাপই মোবাইল তথা এন্ডোয়েড এবং iOS ডিভাইসের জন্য উপযুক্ত।

Snapseed – Photo Editor App

Snapseed - মোবাইল দিয়ে ছবি ইডিট করার সেরা অ্যাপস
মোবাইল দিয়ে ছবি ইডিট করার সেরা অ্যাপস – Snapseed

এন্ড্রোয়েড এবং iOS ডিভাইসেও ব্যবহার করা যাবে Snapseed। এই এ্যাপটি এর এ্যাডভান্স লেভেলের Photo Editing Tools গুলোর জন্য জনপ্রিয়।

যারা ফটো ইডিটিং এর প্রতি খুব বেশি প্যাশনেট, কিন্তু ডেস্কটপের অভাবে এ্যাডভান্স লেভেলের ইডিটিং করতে পারছেন না, তাদের জন্য Snapseed Photo Editor এ্যাপটি সেরা চয়েজ হতে চলেছে। কেননা, এতে আছে অসাধারণ এবং ইউনিক কিছু ফিচার, যেগুলো মোবাইলের অন্যান্য ইডিটিং এ্যাপে কখনোই পাওয়াই যাবে না।

Snapseed এ্যাপে বেশ কিছু Preset Filters থাকে, যেগুলো ইউজাররা নিজের মতো করে কাস্টমাইজ করে নিতে পারে। পাশাপাশি, নতুন নতুন ডিজাইনের আনলিমিটেড ফিল্টার তৈরীর সুযোগ তো রয়েছেই।

এগুলোর পাশাপাশি রয়েছে বেসিক কিছু টুলস যেমন Cropping, Frames, Vignatte এবং Straighttening সহ ইত্যাদী। এখানকার Sharpening ফিচারটি অন্যান্য ফটো ইডিটিং এ্যাপের চেয়ে উন্নত। মোটামুটি রেজুলেশনের ছবিও যদি আপনি Sharpening ব্যবহার করে Sharp করেন, তারপরও ছবির কোয়ালিটি একটুও নষ্ট হয় না।

Snapseed এর ইউনিক ফিচারগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো, Precison masking, যা একটি ছবির সাবজেক্টের চারপাশের দৃশ্য Blurry বা ঝাপসা করে দিতে পারে। প্রোফেশনাল ফটোগ্রাফাররা তাদের ক্যামেরায় এই ফিচারটি ব্যবহার করেই ছবি তোলে এবং যার ফলে ছবির সাব্জেক্ট ফুটে ওঠে এবং দেখতে সুন্দর লাগে।

Snapseed এর আমার প্রিয় একটি ফিচার হলো Selective Adjust Tool. এটা দিয়ে কোনো ছবির নির্দিষ্ট একটি জায়গার Brightness, Contrast এবং Saturation ইডিট করা যায়।

পাশাপাশি, আপনি একটি ছবি ইডিট করার সময় কোন কোন ফিচার ব্যবহার করলেন, সেগুলোর বিস্তারিত ইতিহাস এই এ্যাপটি দীর্ঘদিন সংরক্ষন করে রাখে। তাই কোনো ভুল করে ফেললে সেটা ঠিক করে নিতে সমস্যা হয় না।

VSCO – Image Editor App

এ্যান্ড্রয়েড এবং iOS উভয় ডিভাইসের জন্যই VSCO এর এ্যাপ রয়েছে। এই এ্যাপটি ক্লাসিক ফিল্টারগুলোর জন্য জনপ্রিয়।

ইন্সটাগ্রামের মতো VSCO App এর রয়েছে নিজস্ব অনলাইন কমিউনিটি, চমৎকার Editing Tools এবং ক্যামেরা। তবে VSCO App এর জনপ্রিয়তার মূল কারণ লুকিয়ে আছে এর Image Filters গুলোতে, যেগুলো ছবিতে এ্যানালগ ফিল্ম ক্যামেরাগুলোর মতো ইফেক্ট তৈরী করে দেয়।

আমরা সবাই জানি, ইন্সটাগ্রামের ফিল্টারগুলো সাধারণত একটু ভারী হয়। যার ফলে, একটু কম রেজুলেশনের ছবিতে ইন্সটাগ্রামের ফিল্টার ব্যবহার করলে ছবির কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যায়।

এদিক থেকে VSCO App এর ফিল্টারগুলো ইন্সটাগ্রামকে ছাড়িয়ে যাবে। কারণ এখানকার ফিল্টার বেশ হালকা এবং কোয়ালিটিও অসাধারণ। যার ফলে, আপনার ছবির রেজুলেশন ভালো না হলেও এই এ্যাপটি ব্যবহার করে অনায়েসে দুর্দান্ত সব ফিল্টারের স্বাদ নিতে পারবেন।

ফিল্টারের পাশাপাশি এখানে অন্যান্য ইডিটিং টুলসগুলোর মধ্যে আছে Adjustments, Cropping, Borders এবং Vignettes। এছাড়াও আপনি VSCO দিয়ে Exposure, Skin tones, Temperature এবং Contrast মনের মতো করে Adjust করে নিতে পারবেন।

Prisma – Photo Editor App

Prisma - ছবিকে পেইন্টিং অথবা ড্রয়িং এ রূপান্তরিত করার সেরা এন্ড্রোয়েড অ্যাপ
Prisma – ছবিকে পেইন্টিং অথবা ড্রয়িং এ রূপান্তরিত করার সেরা এন্ড্রোয়েড অ্যাপ

এই এ্যাপটি এন্ড্রোয়েড এবং iOS ডিভাইসের জন্য উপযুক্ত। প্লে স্টোরে বিনামূল্যে বিনামূল্যে এটি পাওয়া যাবে। একটা ফটো বা ছবিকে পেইন্টিং অথবা ড্রয়িং এ রূপান্তরিত করার জন্য এই এ্যাপটি ব্যবহার করা হয়।

বেশিরভাগ সাধারণ ইমেজ ইডিটিং এ্যাপেই Painting এবং Drawing এর ফিল্টার থাকে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো আমাদের ছবিকে হাস্যকর বানিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে Prisma Photo Editing এ্যাপটি ব্যতিক্রম।

Prisma App তৈরী করা হয়েছে আর্টিফিশিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। যার ফলে, এই এ্যাপটি আমাদের ছবিগুলোকে বড় বড় চিত্রকর যেমন পিকাসো, মঞ্চো এবং এমনকি সালভাদোর দালির চিত্রকর্মের আদলে আর্ট বানিয়ে দিতে পারে। আপনি প্রথমবার এই এ্যাপটি ব্যবহার করার সময় আউটপুট দেখে নিজেই চমকে যাবেন।

এখানকার অধিকাংশ ফিচারই ফ্রি ভার্সনে ব্যবহার করা যায়। তবে এ্যাডভান্স কিছু ফিচার রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করার জন্য প্রিমিয়াম প্যাকেজ চালু করা আবশ্যক।

এই লেভেলের আরো কিছু এ্যাপ আমি চেক করেছি। সেগুলো কোয়ালিটির দিক থেকে Prisma এর সমতুল্য হলেও ফ্রি ভার্সনে খুব কম সংখ্যক ( মাত্র ৮-১০ টা) ফিল্টার প্রোভাইড করে।

অথচ Prisma App এর ফ্রি ভার্সনে প্রায় ৫০০ টির বেশি ফিল্টার রয়েছে, যা কিনা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। তাই এই এ্যাপটি সবার জন্যই চমৎকার একটা টুলস হিতে চলেছে।

Prisma Photo Editing App এর নিজস্ব অনলাইন কমিউনিটি আছে। ইউজাররা সেখানে তাদের ইডিটেড ছবি শেয়ার করে। তাই আপনি এখান থেকে অনেক নতুন নতুন আইডিয়া খুঁজে পাবেন নিজের জন্য। অসাধারণ সব আর্ট তৈরী করে চমকে দিতে পারবেন বন্ধুদের।

Adobe Photoshop Express

এই এ্যাপটি এন্ড্রোয়েড এবং iOS ডিভাইসেও ব্যবহার করা যাবে। প্লে স্টোর থেকে বিনামূল্যে এটি ডাউনলোড করা যায়। এর মাধ্যমে সব ধরণের ছবিই ইডিট করা করতে পারবেন।

Adobe Photoshop Express এ্যাপটি মূলত ডেস্কটপের ফটো ইডিটিং এর জন্য বিখ্যাত সফটওয়্যার Photoshop এর সেরা সমস্ত টুলস গুলোকে নিয়ে তৈরী করা হয়েছে।

যেহেতু, ডেস্কটপের ফটোশপ সফটওয়্যারটির ব্যবহার একটু জটিল, তাই অনেকে ভাবতে পারেন, এই এ্যাপটির ব্যবহারও একইরকম কঠিন কিনা। আমার উত্তর হলো, না, একদমই না।

মোবাইলের অন্যান্য সাধারণ ফটো ইডিটির এ্যাপের মতোই এটির ব্যবহারও অনেক সহজ এবং সুন্দর।
এখানে ছবি ইডিটের জন্য আপনাকে জাস্ট একটা ছবি আপলোড করতে হবে এবং তারপরই আপনি ইডিটিং টুলগুলো দেখতে পারবেন। সেগুলোর সাহায্যে মনমতো ছবি ইডিটিং শুরু করে নিতে পারবেন।

এখানে সব ধরণের টুলসই আপনি পাবেন। যেমন Red-Eye Correction, Filters, Brightness, Contrast, Cropping, Broders ইত্যাদী। যাইহোক, এই এই এ্যাপের সেরা ফিচারটা হলো এদের Smart Filter সিস্টেম। এদের ফিল্টারগুলো অটোমেটিক্যালি কমন ইস্যুগুলোর কারেকশন দিতে পারে।

যেমন, কোন ছবিতে কতখানি কালার কারেকশন করতে হবে, এক্সপোজার কেমন হবে, সে সব কিছু এখানকার ফিল্টারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বুঝতে পারে এবং সেই অনুযায়ী আউটপুট দেয়।

Adobe Photoshop Express ব্যবহারের জন্য আপনাকে প্রথমে Sign Up করে Adobe Account তৈরী করে নিতে হবে। এছাড়া আর কোনো জটিলতা নেই বলা চলে। এখানে ইডিট করা ছবি আপনি সরাসরি মোবাইলের মেমরীতে ডাউনলোড করে নিতে পারেন, কিংবা সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়াতেও অটোমেটিক ভাবে শেয়ার দিতেও পারবেন।

Foodie – Photo Editing App

Foodie এন্ড্রোয়েড এবং iOS ডিভাইসেও ব্যবহার করা যাবে। এই এ্যাপটি খাবারের ছবি তোলার জন্য বিখ্যাত। প্লে স্টোর থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এটি ডাউনলোড করতে পারবেন।

বর্তমানে রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবারের ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড দেয়া ট্রেন্ডে পরিণত হয়ে গেছে। এই ট্রেন্ডে যারা গা ভাসাতে চায়, তাদের জন্যই মূলত ডিজাইন করা হয়েছে Foodie এ্যাপটি।

খাবারের ছবি তোলার সময় আমরা সাধারণত উপর থেকে মোবাইল আনুভূমিক ভাবে খাবারের উপর পজিশন করে মোবাইলের ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলি। এই পজিশনে ছবির সর্বোচ্চ কোয়ালিটি নিশ্চিত করার জন্য এই এ্যাপটিতে রয়েছে Birds Eye Sensor, যার পার্ফোমেন্স দারুন।

এই এ্যাপটির ক্লালার গ্রেডিং ফিচারও আমার কাছে মানসম্মত লেগেছে। যারা ইন্সটাগ্রামে খাবারের ছবি আপলোড দিতে চায়, তাদের জন্য এই এ্যাপটি এক কথায় অনবদ্য।

Adobe Lightroom

এই এ্যাপটি এন্ড্রোয়েড এবং iOS ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরী করা হয়েছে। প্লে স্টোরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এটি পাওয়া যায়। যারা প্রোফেশনাল ফটো ইডিটর হতে চান এবং অতি অল্প সময়ে একটা ছবিকে দুর্দান্ত লুকে নিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা চয়েজ।

Adobe Lightroom মোবাইলে ছবি ইডিট করার জন্য অন্যতম সেরা একটি এ্যাপ। আমার পরিচিত কয়েকজন ফটোগ্রাফারের মোবাইলে আমি এই এ্যাপটি দেখেছি। তাদের কথা অনুযায়ী, শুধুমাত্র Adobe Lightroom এ্যাপেই হাই কোয়ালিটির ছবির ফরমেট RAW Files নিয়ে কাজ করা যায়। মোবাইলের অন্য কোনো ছবি ইডিট করার এ্যাপে এই ধরণের ফাইল ব্যবহার করা যায় না।

এই এ্যাপের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, এখানে হাজার রকমের ছোট এবং অপ্রয়োজনীয় টুলস নেই। এখানে স্থান পেয়েছে শুধুমাত্র আমাদের প্রয়োজনীয় টুলসগুলো। যার ফলে, এখানে ছবি ইডিট করার সময় আপনি কখনোই দ্বিধান্বিত হয়ে পড়বেন না।

Adobe Lightroom App এ রয়েছে Color, Light, Detail, Distortion এর মতো ফিচার। এছাড়াও, এখানে আপনি নিজের পছন্দ অনুযায়ী Filter তৈরী করতে পারবেন এবং Default Filter গুলো ইডিট করে নিতেও কোনো বাঁধা নেই।

এই এ্যাপের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, ইন্টারনেটে এতে ব্যবহারযোগ্য অসংখ্য Filter রয়েছে, যেগুলো তৈরী করেছে অভিজ্ঞ সব ইডিটররা। এসব ফিল্টারের মাধ্যমে Adobe Lightroom ব্যবহার করে মাত্র এক ক্লিকেই অসাধারণ সব ইডিটেড ছবি পাওয়া সম্ভব।

অনেক ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলও এখন টাকার বিনিময়ে এরকম Custom ফিল্টার বিক্রি করে। ইউটিউবে Lightroom এর জন্য বিভিন্ন রকম Filter তৈরীর টিউটোরিয়াল রয়েছে। তাই এই এ্যাপে এক্সপার্ট হওয়া আসলে খুবই সহজ।

Collage Maker

শুধুমাত্র iOS তথা আইফোনের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে, তবে খুব শীগ্রই Android ভার্সন এ্যাভাইলেবল হবে বলে শোনা যাচ্ছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। Photo College তৈরীর জন্য এর থেকে ভালো এ্যাপ আর একটাও নেই।

Photoshop Express সহ উপরে উল্লেখিত অনেক ফটো ইডিটর এ্যাপে অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি Photo College তৈরীরও সুযোগ রয়েছে। কিন্তু Collage Maker এ্যাপটি শুধুমাত্র Collage এর উপর নজর রেখে বানানোর ফলে এখানে Photo Collage তৈরীর ক্ষেত্রে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়।

এই এ্যাপটিতে রয়েছে হাজারখানেক লে-আউট, যার মধ্য থেকে পছন্দের লে-আউট খুঁজে পাওয়া খুবই সহজ। এখানে বিভিন্ন ডিজাইনের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং বর্ডার তৈরীর সিস্টেম রয়েছে। পাশাপাশি, আপনি আপনার তৈরী করা Photo College এর উপর Text লিখতে ও সেটা কাস্টমাইজও (Font, Color, Sizes ইত্যাদীর) করতে পারবেন।

এসব ছাড়াও অন্যান্য সাধারণ ফটো ইডিটরের মতো এখানেও রয়েছে বেসিক ফটো ইডিটিং টুলস। তাই এই একটি এ্যাপ দিয়েই একাধিক ছবি ইডিট করে নিয়ে সেগুলোর কলেজ তৈরী করা যায়। এইটুকু কাজের জন্য একাধিক এ্যাপ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

Adobe Photoshop Fix

Adobe Photoshop Fix - Portrait ক্যাটাগরির ছবি ইডিটের জন্য সেরা অ্যাপস
Adobe Photoshop Fix – Portrait ক্যাটাগরির ছবি ইডিটের জন্য সেরা অ্যাপস

এই এ্যাপটি শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত। প্লে স্টোরে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। Portrait ক্যাটাগরির ছবি ইডিটের জন্য এর থেকে ভালো আর কোনো মোবাইল এ্যাপ হতে পারে না।

Adobe Photoshop Fix এ্যাপটি ছবিতে শুধুমাত্র ফিল্টার ও ইফেক্ট যুক্ত করার জন্যই নয়, বরং ছবির বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় অংশ ঠিক করা কিংবা মুছে ফেলার জন্য তৈরী করা হয়েছে।

এই এ্যাপ দিয়ে Portrait ক্যাটাগরির ছবিতে প্রোফেশনাল লুক আনা যায়। এখানে সব ধরণের বেসিক এবং সুক্ষ্ম কাজের টুলস আছে, যেগুলো দিয়ে একটি ছবির বিষয়বস্তুকে নিখুতভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।

যাইহোক, যখন আপনি এই এ্যাপে একটি Portrait ক্যাটাগরীর ছবি আপলোড করবেন, এই এ্যাপটি সেন্সরের মাধ্যমে অটোমেটিক্যালি সাব্জেক্টের ফেসিয়াল ফিচারগুলো শনাক্ত করে ফেলবে। তারপর আপনি ছবির সাব্জেক্টের মুখাবয়বের বিভিন্ন অংশের সাইজ, শেইপ, পজিশন ইত্যাদী পরিবর্তন করতে পারবেন।

যদিও আমরা সবাই সুন্দর, তারপরও অনেকে নিজেদের মুখাবয়বের কোনো একটি অংশ নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগে। এই এ্যাপটি তাদের জন্য একদম উপযুক্ত। এই এ্যাপের সাহায্যে আপনার বাস্তবের কল্পিত ত্রুটিটা ছবি থেকে সরাতে পারবেন।

Visage – Image Editing App

এই এ্যাপটি এন্ড্রোয়েড এবং iOS উভয় প্লাটফর্মেই এ্যাভাইলেবল। এটি বিনামূল্যে প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাবে। সেল্ফি ইডিট করার জন্য অন্যতম ভালো একটি এ্যাপ।

ব্রণ, কোটরাগত চোখ, চোখের নিচের কালো দাগ কিংবা হলুদ রঙের দাঁত – কোনো কিছুই ছবি তোলার ক্ষেত্রে আর বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারবে না। কারণ Visage Photo Editing Apps তৈরীই করা হয়েছে যেকোনো ছবি হতে এই সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা দূর করে দেয়ার জন্য।

এই এ্যাপ ব্যবহার করে আপনি আপনার ছবিকে অন্য লেভেলে নিয়ে যেতে পারবেন। অল্প স্বল্প মেকাপও করা যায় মোবাইলের এই ছবি ইডিটর এ্যাপ দিয়ে। পাশাপাশি, ছবির পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড পছন্দ না হলে নতুন আকর্ষণীয় ব্যাকগ্রাউন্ড সেট করে দিতে পারবেন। যোগ করতে পারবেন সুন্দর কিছু ইফেক্ট।

যাইহোক, এই এ্যাপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এর ফ্রি ভার্সনে গুগলের বিজ্ঞাপন একটু বেশি পরিমাণে প্রদর্শন করানো হয়, যা মাঝে মাঝে বিরক্তিকর লাগে। আরো একটি সমস্যা হলো, এখান থেকে ছবি ইডিট করলে এডিটেড ছবির নিচে Visage এর ব্র‍্যান্ড লোগো থাকে, যা অস্বস্তিকর।

B612 Photo Editor

B612 এ্যাপটি এন্ড্রোয়েড এবং আইফোন উভয় ধরণের মোবাইলের জন্যই প্রযোজ্য। প্লে স্টোরে বিনামূল্যে এই এ্যাপটি পাওয়া যাবে। সেল্ফি ফটো ইডিটের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

বেসিক থেকে শুরু করে এ্যাডভান্স – সব রকম টুলস আছে এই অ্যাপে। B612 অ্যাপের সাহায্যে আপনি চাইলেই আপনার ছবির চারপাশটা DSLR ক্যামেরায় তোলা ছবির মতো অস্পষ্ট করে দিতে পারবেন। আবার, ইচ্ছে করলে, আপনার মেকাআপহীন ছবিতে যুক্ত করে দিতে পারবেন কড়া মেকআপ।

এছাড়াও, এখানে রয়েছে Face Correction সিস্টেম। যার মাধ্যমে মুখের ব্রণ থেকে শুরু করে যেকোনো দাগ মুছে দেয়া যায় নিখুঁতভাবে। পাশাপাশি, ছবির অন্য সব জায়গার ব্রাইটনেস স্থির রেখে মুখের ব্রাইটনেস বাড়ানো কমানো যায়। দাঁত থেকে শুরু করে চোখের ভ্রু – মুখের সমস্ত অংশ মডিফাই করা যায়।

এছাড়াও প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ফটো ইফেক্ট, বেসিক কালার গ্রেডিং, আপডেটেড বর্ডার সিস্টেম তো থাকছেই। তবে, এই এ্যাপের সবচেয়ে স্পেশাল ব্যাপারটি হলো, এখানে সব টুলসই আপনি পাবেন একদম রেডিমেট হিসেবে। মানে, আপনাকে জাস্ট একটা ক্লিক ছাড়া আর কিছুই করতে হবে না। যা করার, এ্যাপই আপনাকে করে দিবে। এই ব্যাপারটি এই এ্যাপটিকে যেকোনো মানুষের জন্য অনেক সহজ করে দিয়েছে।

B612 এ্যাপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এখানকার ইডিট ও ফিল্টারগুলো বেশ ভারী হওয়ায়, ইডিটিং এর পর ছবির কোয়ালিটি খানিকটা নষ্ট হয়ে যায়। আপনার ছবির রেজুলেশন খুব ভালো না হলে এই এ্যাপের ভারী ধরণের ইডিট ব্যবহার না করাই ভালো।

শেষ কথা

১৫ বছর আগেও ভালো কোয়ালিটির ছবি তোলা এতো বেশি সহজ ছিল না, আর ছবি ইডিট করা তো ছিল আরো কঠিন। প্রোফেশনাল ইডিটের জন্য প্রয়োজন হতো কম্পিউটারের। কম্পিউটার থাকতো হাতে গোণা কিছু মানুষের ঘরে। আবার কম্পিউটার থাকলেও ছবি ইডিটিং এর জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার কেনা ছিল যথেষ্ট ঝামেলার।

অথচ এখন, সবার হাতেই হাজার হাজার টাকার স্মার্টফোন। আর সেই স্মার্টফোনে একইসঙ্গে রয়েছে হাই কোয়ালিটির ক্যামেরা এবং তার সঙ্গে আবার হাজার হাজার মোবাইলের ফটো এডিটিং এ্যাপ সম্পূর্ণ ফ্রি!

এই সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য আমাদের প্রয়োজন মোবাইলের সেরা ফটো ইডিটিং এ্যাপগুলো খুঁজে বের করা। এই কাজে সহায়তা করতেই লিখা হয়েছে এই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি। আশা করছি, আপনি আপনার মোবাইলের জন্য সেরা ছবি ইডিটের এ্যাপটি খুঁজে পেয়েছেন। লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট করে সাথে থাকুন।

আরও পড়ুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *