মুখের কালো দাগ দূর করার ঘরোয়া কিছু সহজ উপায় এবং সতর্কতা

মুখের কালো দাগ নিয়ে চিন্তিত? কি ভাবছেন? মেডিসিন কিংবা দামী ক্রীম সব ঠিক করে দিবে? তবে জেনে রাখুন, এসব মেডিসিন বা ক্রীমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আপনার জিবনে এই দাগগুলোর চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা বয়ে আনতে সক্ষম! তাই সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি ব্রণ বা মুখের কালো দাগ দূর করার জন্য সহজ কিছু প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে যেমন আপনার অর্থের সাশ্রয় ঘটবে , পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ও আর থাকবে না।

মুখে কালো দাগের কারণ ও এর প্রতিরোধ

মুখের কালো দাগ, ব্রণ, ব্ল্যাক হেডস কিংবা ডার্ক স্পটসহ এ সব বাড়তি ঝামেলার মূলেই রয়েছে অপরিষ্কার জীবাণুযুক্ত মুখ। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের ঘরের বাইরে যেতে হয়। আর বাইরের ধুলাবালি ত্বকে জমে মুখে নানারকম জীবাণুর সংক্রমণ ঘটায়। আমাদের ত্বক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে তৈলগ্রন্থির আকৃতি বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং একসময় তা ব্রণে রূপ নেয়। এই ব্রণ পরে সেরে গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কালো দাগ রেখে যায়, যা মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে।

বয়ঃসন্ধিতে হরমোনের নানা অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়, ফলে গ্ল্যান্ড থেকে হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ কমবেশি হয়। এই তারতম্য গ্ল্যান্ড অনেক বেশি তেল উৎপন্ন করে, যার কারনে লোমকূপে বেশি ময়লা আটকে যায় এবং সেই সাথে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও বেড়ে যায়। অতঃপর স্কিনে আত্মপ্রকাশ ঘটে নানা সমস্যার।

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। এজন্য এই সমস্যাগুলো সৃষ্টি হওয়ার আগেই প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। মুখে ব্রণ বা ব্ল্যাক হেডস প্রতিরোধে প্রতিদিন কিছু নিয়ম মেনে চলুন:

  • প্রতিদিন অন্তত ৬-৭ গ্লাস পানি পান করুন।
  • রাতের খাবারের পর যেকোন মৌসুমী ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অথবা রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস লেবু পানি পান করুন।
  • বাইরে কোথাও যাওয়ার পূর্বে সানস্কিন ক্রিম ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে ওরনা, মাস্ক বা স্কার্ফ দিয়ে মুখ ঢেকে নিন।
  • অতিরিক্ত তেল বা চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন।৪.সবসময়ই মুখ পরিষ্কার রাখুন। দিনে দুবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন।
  • বাইরে থেকে আসার পরপরই ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এছাড়া হালকা গরম পানির স্টীম ও নিতে পারেন।
  • বারবার মুখে হাত লাগানো থেকে বিরত থাকুন।
  • যেকোন প্রোডাক্ট ব্যবহারের পূর্বে সতর্ক হোন। সর্বোপরি নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিন।

১. মুখের কালো দাগ দূর করতে লেবুর রস

মুখের কালো দাগ দূর করার ঘরোয়া কিছু সহজ উপায় এবং সতর্কতা
চিত্রসূত্র: Pixels.com

মুখের কালো দাগ দূর করার অন্যতম একটি উপায় হলো লেবুর রস মিশ্রিত ফেসপ্যাক ব্যবহার। ত্বকের যত্নে লেবুর রস হচ্ছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং। এতে বিদ্যমান অ্যাসকরবিক এসিড ত্বকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। মুখের যেকোনো কালো দাগ দূর করতে লেবুর রসের সঙ্গে গোলাপজল বা ভিটামিন ‘ ই ‘ যোগ করে তুলার বল দিয়ে ৩-৪ মিনিট দাগযুক্ত স্থানে ম্যাসাজ করতে হয়। এতে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। 

মুখের কালো দাগ দূর করার আরেকটি কার্যকরী উপায় লেবুর রস ও কমলার রসের ফেসপ্যাক। লেবুর রস ও কমলার রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্রণ দূর করার পাশাপাশি মুখের উজ্জলতাও ফিরিয়ে আনবে।

এছাড়াও সমপরিমাণ লেবুর রস ও দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্যাকটি মুখের ব্রণ ও কলচে দাগ দূর করার পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতাও ধরে রাখে।

সতর্কতা: মুখের কালো দাগ দূর করতে লেবুর রস নিঃসন্দেহে একটি ভালো উপাদান। তবে সরাসরি লেবুর রস ব্যবহার করবেন না যেন। এসিডধর্মী হওয়ায় সরাসরি ব্যবহারে আপনার ত্বক পুড়েও যেতে পারে। এছাড়া ত্বক জ্বালাপোড়া ও ফোস্কা পড়ার ব্যাপারটিও ঘটতে পারে।


২. মুখের ব্রণভিত্তিক কালো দাগ দূর করতে মধু

রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিয়ে মধু ম্যাসাজ করুন। সারারাত রেখে সকালে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মধুর সাথে দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করেও এ্যপলাই করতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্যবহারের ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

দুই চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে স্ক্রাবার তৈরি করে নিতে পারেন। এটি ব্যবহারে ত্বকের মৃতকোষ ঝরে যাওয়ার পাশাপাশি দূর হবে ব্ল্যাক হেডস। অথবা দুধ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে কালো দাগের উপর এ্যপলাই করতে পারেন। ১০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। টানা কয়েকদিনের ব্যবহারে মুখের কালো দাগ উধাও হয়ে যাবে।

আপেল ও মধুর মিশ্রণ ব্রণের কালো দাগ দূর করার একটি জনপ্রিয় উপায়। প্রথমে আপেলের পেস্ট তৈরি করে তাতে ৪-৬ ফোঁটা মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি ব্যবহারের কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ৫-৬ বার প্যাকটি ব্যবহার করা যেতে পারে।     

সতর্কতা: অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে মধু ব্যবহার করবেন না।মধু ব্যবহারের পর ত্বক খুব ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। নাহলে জমে থাকা মধু লোমকূপে আটকে ‘ব্রেইক আউট’ বা ব্রণের সৃষ্টি করবে।


৩. ত্বকের কালো দাগ দূর করতে অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরার পাতা মাঝবরাবর কেটে ভেতরের জেল ছেঁচে নিন। এই জেল ত্বকে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করুন। ৩০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন দুইবার এই পদ্ধতি এ্যপলাই করতে পারেন। এতে শুধু মুখের কালো দাগই দূর হবে না, সেইসাথে ত্বক হবে সতেজ ও উজ্জ্বল।

এছাড়া অ্যালোভেরা জেল, চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করেও ব্যবহার করতে পারেন।অ্যালোভেরা, মধু, শশা একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট করে ত্বকে ব্যবহার করলেও উপকার পাওয়া যাবে।      

সতর্কতা: অ্যালোভেরা জেল সরাসরি ত্বকে লাগানো হলে অ্যলার্জি হতে পারে। এজন্য তুলা বা সুতি কাপড় ব্যবহার করুন।জেল/ অ্যালোভেরা রস লাগিয়ে সূর্যের আলো বা আগুনের তাপে যাবেন না।অপরিষ্কার ত্বকে এটি ব্যবহার করবেন না সেই সঙ্গে ব্যবহারের সময় যেকোন ক্যামিকাল জাতীয় প্রসাধনী ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।


৪. শসা

ত্বকের দাগছোপ থেকে মুক্তি পেতে শসা একটি কর্যকরী উপাদান। শসা আমাদের ত্বকের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহ করে স্কিনটোন হালকা করে। শসার খোসা ছাড়িয়ে ব্লেন্ড করে রস বের করে নিন। প্রতিরাতে মুখে ম্যাসাজ করে সারারাত রেখে দিন। সকালে হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এক রাতের মধ্যেই আপনি পার্থক্য খুঁজে পাবেন। এছাড়া ফ্রিজে বরফ বানানোর ছাঁচে শসার রস রেখে কিউব তৈরি করে রাখা যায়। প্রতিদিন এ কিউব ব্যবহার করতে পারেন। মুখের কালো দাগ দূর করার এটিও একটি কার্যকরী উপায়।      


৫. টমেটো

টমেটোর রস মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। রোদে পোড়া, মুখের কালো দাগ দূর করতে একটা টমেটো থেঁতো করে তাতে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে ব্যবহার করুন। ১০-১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

আবার, টমেটোর রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে প্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ব্যবহারের ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ বার এই প্যাকটি লাগান। এটি ব্রণের দাগ দূর করার পাশাপাশি রোদে পোড়া দাগ দূর করে ত্বকে উজ্জলতা ফিরিয়ে আনবে।

এছাড়াও টমেটোর রস ও মসুর ডাল বাটার সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে নিতে পারেন। স্ক্রাবটি সপ্তাহে এক বার ব্যবহার করুন।         


৬. পাকা পেঁপে

মুখের কালো দাগ দূর করার ঘরোয়া কিছু সহজ উপায় এবং সতর্কতা
চিত্রসূত্র: Pixels.com

মুখের কালো দাগ দূর করার পাশাপাশি ত্বক পরিষ্কার করতে পেঁপের প্যাপেইন এনজাইম অধিক কার্যকরী। কয়েক টুকরো পাকা পেঁপে নিয়ে পেস্ট করে জুস তৈরি করুন। এবার কটন বলের সাহায্যে ব্রণ বা দাগের অংশে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর উষ্ম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন একবার এই পদ্ধতি এ্যপলাই করা হলে ব্রণ বা মুখের কালো দাগ কোনটাই আর অবশিষ্ট থাকবে না। জুস করা ঝামেলা মনে হলে এক টুকরো পাকা পেঁপে নিয়ে দাগে ঘষুন। ১০ মিনিট পর উষ্ম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।এছাড়া পেঁপের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।         


৭. আলু

সাধারণত সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, ত্বকের যত্নেও আলু বহুল প্রচলিত। মুখের কালো দাগ সারাতে আলুর রস ভালো কাজ করে। আলু ব্লেন্ড করে তা থেকে রস বের করে মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন। রস শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ১ চা চামচ গ্ৰেট করা আলুর সাথে ১/২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।অথবা , ১ চা চামচ গ্ৰেট করা আলু, ১ চা চামচ টমেটো পেস্ট ও ১/২ চা চামচ দুধের সর একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান ‌‌। ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ‌।দুধের সরের পরিবর্তে ১ চা চামচ টকদই ব্যবহার করতে পারেন ‌। এছাড়া সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিতে পুড়ে যাওয়া ত্বকে আলুর স্লাইস দারুন কাজ করে।           


৮. মুখের যেকোনো কালো দাগ দূর করতে কাঁচা হলুদ

কাঁচা হলুদে রয়েছে এন্টিসেপ্টিক ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ব্রণ সারাতে সাহায্য করে।কাঁচা হলুদ বাটা, আঙ্গুরের রস ও গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে ব্রণে লাগান। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।কাঁচা হলুদ বাটার সঙ্গে নিমপাতার রস মিশিয়ে ব্যবহারে ব্রণের দ্রুত উপশম হয়।

এছাড়া ব্রণ বা মুখের কালো দাগ দূর করতে কাঁচা হলুদ, টমেটোর রস ও মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে পারেন।         

সতর্কতা: ত্বকে হলুদের কোন প্যাক ব্যবহারে ২০ মিনিটের মধ্যেই ধুয়ে ফেলুন। অতিরিক্ত সময় ধরে রেখে দিলে তা ত্বকের ক্ষতির কারণ হবে। ব্যবহারের পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে খুব ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে নিন।তবে ভুলেও ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে যাবেন না। এতে হলুদের কার্যকারীতা নষ্ট হয়ে যাবে।       


 ৯. বরফ

রোদে পোড়া কালো দাগ দূর করতে বরফ ব্যবহার বেশ প্রচলিত একটি উপায়। রোদ থেকে ঘরে ফিরে ত্বকে আলতো করে বরফ ঘষুন। এতে রোদে পোড়া দাগ দূর হওয়ার পাশাপাশি জ্বালাপোড়া ভাবও কমবে।আধা কাপ অ্যালোভেরা জেল আইস ট্রেতে করে ফ্রিজে রেখে দিন। ২ ঘন্টা পর বের করে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। ১৫ মিনিট পর মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এর এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টি ইনফ্লামেটরী উপাদান রোদে পোড়া দাগ এবং জ্বালাপোড়া ভাব দূর করতে সাহায্য করে।এছাড়া দুই টেবিল চামচ নিমপাতার সঙ্গে সামান্য হলুদ মিক্সড করে আধ কাপ পানিতে মিশিয়ে তৈরি বরফ ব্যবহারে ব্রণের দাগ দূর করা সম্ভব।

সতর্কতা: সরাসরি ত্বকে বরফ ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে ত্বকের নিচের শিরা-উপশিরাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ত্বকে বরফ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বরফ প্যাচিয়ে নিন।


১০. তুলসী

ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে তুলসী ভালো কাজ করে।প্রথমে একটি পাত্রে পানি গরম করে নিয়ে তাতে ৬-৭ টি বড় তুলসীপাতা ছেড়ে দিন। এবার ১০ মিনিট এই পানির ভাপ মুখে ধরে রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।মুখের কালো দাগ দূর করতে তুলসী পাতা এবং বেসন একসাথে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি ব্যবহারের কিছুক্ষণ পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।    


১১. টকদই

মুখের কালো দাগের উপর টকদই লাগান। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে রাতে টকদই ব্যবহার করে সারারাত রেখে দিন। সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।ত্বকের রোদে পোড়া দাগ দূর করতে সমপরিমাণ টকদই ও টমেটোর রস মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে নিয়মিত ব্যবহার করুন। সেইসাথে প্যাকটিতে অ্যালোভেরা জেলও যোগ করতে পারেন।

সতর্কতা: কাঁচা দুধ বা টকদই দিয়ে তৈরি যেকোন ফে সপ্যাক ব্যবহারের পর ধুয়ে ফেলতে অবশ্যই কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।


১২. নিমপাতা

ব্রণ বা মুখের কালো দাগ দূর করতে ১০ টি নিমপাতা ও একটি ছোট কমলা খোসা ছাড়িয়ে পানিতে সিদ্ধ করে পেস্ট করে নিন। তাতে অল্প পরিমাণ দুধ ও মধু যোগ করুন । ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়া মুখের কালো দাগ দূর করতে নিমপাতার পেস্ট করে তাতে মধু ও গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করুন। ৩০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দুই দিন প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি ব্রণের জন্যও বেশ কার্যকরী।

আবার, কয়েকটি নিমপাতার সাথে হলুদ গুঁড়ো ও দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।   


মুখের অবাঞ্চিত কালো দাগ দূর করার বেশ কিছু কার্যকরী উপায় সরবরাহ করা হয়েছে। আপনি আপনার সুবিধামত উপরের যেকোনো পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। সকলের ত্বকের ধরণ যেহেতু এক নয় , সেহেতু সব ধরণের প্যাক সবার জন্য সমানভাবে কার্যকরী নাও হতে পারে। আপনার ত্বকের ধরণ ও সংবেদনশীলতার দিকে লক্ষ্য রেখে যেকোন ফেসপ্যাক বাছাই করুন। সঠিক পদ্ধতিতে এসব টিপস্ ব্যবহার করে খুব দ্রুতই মুখের কালো দাগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।


ফিচার্ড ইমেজ ক্রেডিট: By Kjerstin_Michaela Pixabay.Com

Share On:
লাবনী আক্তার সেতু

একজন সম্ভাবনাময়ী মানুষ। নতুন বিষয় জানতে ভালোবাসেন। স্বপ্ন একদিন অকৃত্রিম ভালোবাসা দিয়ে জগত জয় করার। ↗️

7 thoughts on “মুখের কালো দাগ দূর করার ঘরোয়া কিছু সহজ উপায় এবং সতর্কতা”

    • এগুলো ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্যই কার্যকরী।
      ব্রণের গর্ত সারাতে অ্যালোভেরা জেল অনেক ভালো কাজ করে। আপনি চাইলে বাজার থেকে অ্যালোভেরা কিনে এনে তা থেকে জেল বের করেও ব্যবহার করতে পারেন।
      এছাড়া ব্যবহার করতে পারেন অলিভ অয়েল। এটিও গর্ত সারাতে সাহায্য করে।

      Reply

Leave a Comment