চুল পড়া বন্ধ করার উপায় (পর্ব- ০২)

চুল পড়া বিষয়ক পর্বভিত্তিক আলোচনার গত পর্বে চুল পড়ার বায়োলজিক্যাল ও বাহ্যিক কারণসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছিল। আজকের পর্বে বায়োলজিক্যাল ও বাহ্যিক কারণে সৃষ্ট চুল পড়া সমস্যা বন্ধ করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত লেখা হবে। পাশাপাশি জানানো হবে চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া কিছু সহজ উপায়।

অবশ্যই পড়ুনঃ

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় বিষয়ে পড়ার আগে অবশ্যই চুল পড়ার বায়োলজিক্যাল ও বাহ্যিক সকল কারণসমূহ জেনে নিন – আপনার অতিরিক্ত চুল পড়ার কারণ কি?

বায়োলজিক্যাল কারণে সৃষ্ট চুল পড়া সমস্যা বন্ধ করার উপায়

বায়োলজিক্যাল কারণে যদি চুল পড়া শুরু হয়, তবে তা প্রতিরোধ ও প্রতিকারের খুব কম উদ্যোগই আপনি নিজ হাতে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা জিনগত বা হরমোনাল ইমবেলেন্স জনিত কারণগুলো আপনি ঠিক করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে চুল পড়া বন্ধ করতে আপনাকে ট্রিটমেন্ট নিতে হতে পারে। কিন্তু কিছু পদক্ষেপ আপনার নিজেরও নেওয়ার থাকে। যেমন:

  1. অতিরিক্ত চাপ নেবেন না। যেকোনো দুঃশ্চিন্তা মন থেকে মুছে ফেলুন। নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  2. মেডিসিন প্রেসক্রিপশনের আগে জেনে নিন তা আপনার চুল পড়ার কারণ হবে কি না। সম্ভব হলে মেডিসিন পরিবর্তন করে দিতে বলুন। 
  3. চুলকে ছত্রাক বা খুশকির হাত থেকে রক্ষা করতে ছত্রাকরোধী শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া মাথার ত্বকে যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 
  4. চুল পড়া বন্ধ করতে দেহে ভিটামিন ‘ ই ‘ , ভিটামিন ‘ ডি ‘ , ভিটামিন ‘ এ ‘, ক্যালসিয়াম , আয়রনসহ বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। বেশি বেশি সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 
  5. সুষম খাদ্য গ্রহণে সচেতন হতে হবে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। অতিরিক্ত তেল/চর্বি জাতীয় খাবার বর্জন করতে হবে। চুলকে স্ট্রং ও সিল্কি করতে প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন, ওমেগা থ্রি অবশ্যই যোগ করুন।
  6. ছেলেদের চুল পড়া প্রতিরোধ করতে এবং পুনরায় নতুন চুল গজাতে মিনোক্সিডিল বা রোগেইন নামক মেডিসিন বেশ কার্যকরী। তবে চুলে মিনোক্সিডিল ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  7. সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে সপ্তাহে একবার মাথার ত্বকে ডার্মারোলার ব্যবহার করুন।
  8. প্রতিদিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্তত ৭-৮ ঘন্টা ঘুমিয়ে নিতে হবে। চুল পড়া বন্ধ করতে ঘুমের অনিয়ম করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকুন।

বাহ্যিক কারণে সৃষ্ট চুল পড়া সমস্যা বন্ধ করার উপায়

বাহ্যিক কারণগুলোর সমাধান আমাদের নিজেদের হাতেই রয়েছে। শুধুমাত্র সঠিক যত্ন ও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করেই আমরা চুল পড়ার এই সমস্যা থেকে উত্তরণ পেতে পারি।

  1. ঘনঘন না আঁচড়ে দিনে ২ বার চুল আঁচড়ানোর অভ্যাস করুন। প্রতিবার প্রথমেই মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে জট ছাড়িয়ে নিন। এছাড়া চুল পড়া বন্ধ করতে ভেজা চুল আঁচড়ানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। 
  2. নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখুন। তবে লক্ষ্য রাখুন তা যেন খুব ঘন ঘন না হয়। আবার ধরণ অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। তৈলাক্ত চুলের জন্য প্লেন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। দেখতে স্বচ্ছ হলে বুঝে নিন সেটা প্লেন শ্যাম্পু।
  3. শুষ্ক চুলের জন্য ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ময়েশ্চরাইজার শ্যাম্পু বা সাধারণ মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
  4. কালারড চুলের জন্য নির্ধারিত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।
  5. প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার না করে একদিন পর পর করাই বেশি নিরাপদ। আবার যেসকল শ্যাম্পুতে সিলিকন, সালফেট বা প্যারাবেন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ আছে সেগুলো এড়িয়ে চলুন। চুল পড়া বন্ধ করতে শ্যাম্পু ব্যবহারের এই নিয়মগুলো অবশ্যই মাথায় রাখুন।
  6. কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে মনে রাখুন কন্ডিশনার চুলের জন্য, স্কার্ল্ফের জন্য নয়। সাবধান থাকুন যেন কন্ডিশনার মাথার ত্বকে না লাগে। রুক্ষ চুলের জন্য ময়েশ্চার ও প্রোটিন সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এছাড়া আপনি ভিটামিন-ই ও অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। তৈলাক্ত চুলে এমন কন্ডিশনার ব্যবহার করুন যেখানে ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ কম। স্বাভাবিক চুলের জন্য লিভ-অন কন্ডিশনার ও কালারড চুলের জন্য নির্ধারিত কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। বাজারে শ্যাম্পু এন্ড কন্ডিশনারের যে টু ইন ওয়ান প্যাক পাওয়া যায় ভুলেও সেগুলো ব্যবহার করতে যাবেন না।
  7. তেলের ব্যবহার চুলকে খারাপ আবহাওয়া, তাপ ও সূর্য রশ্মির বিকিরণ থেকে রক্ষা করে ।’ তবে ত্বকের ধরণ অনুযায়ী তেল ব্যবহার করা উচিত। শুষ্ক ত্বক হলে সপ্তাহে ২-৩ দিন তেল ব্যবহার করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বক হলে সপ্তাহে এক দিন চুলে তেল লাগান। আবার স্বাভাবিক চুলের ক্ষেত্রে আপনি আপনার ইচ্ছা মত রুটিন করে নিতে পারেন।
  8. ঘন ঘন চুল টাইট করে বাঁধবেন না। এছাড়া চুল পড়া বন্ধ করতে , যে সকল হেয়ারস্টাইলে চুল পড়ে যায় সেগুলো না করাই ভালো। রাতে ঘুমানোর সময় অনেকে টাইট করে চুল বেঁধে নেন। এর ফলেও প্রচুর চুল পড়তে দেখা যায়। সম্ভব হলে সুতি বালিশের কাভারের পরিবর্তে লিলেনের কাভার ব্যবহার করুন।
  9. রিবন্ডিং করা চুলে কালার, হাইলাইটিং, মেহেদী বা হেনা ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন। রিবন্ডিং করা হলে চুলের প্রচুর যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম কানুন জেনে তবেই যত্ন নিতে হবে।
  10. কালার করার পর চুলের বিশেষ যত্ন নিতে হয়। সপ্তাহে অন্তত একবার হট অয়েল ট্রিটমেন্ট নিন। সপ্তাহে দুদিন প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করিয়ে নিতে পারেন। চুলে হেয়ার ড্রায়ার, কার্লার , আয়রণ ব্যবহার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। চুল পড়া রোধ করতে সপ্তাহে অন্তত একবার হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া কালারড চুলের জন্যও আরো অনেক নিয়ম কানুন মানতে হয়।
  11. চুলে অতিরিক্ত হিট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। অধিক মাত্রায় ক্যামিকেল আছে এমন প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের সময় এর কুলিং সুইচ অন করে নিন। তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে চুল শুকানো থেকেও বিরত থাকুন। সবচেয়ে ভালো হয় ফ্যানের বাতাসেই চুল শুকিয়ে নেওয়া। স্ট্রেইটনার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখুন তা যেন চুলে সরাসরি না হয় এবং চুলে হিট প্রকেক্টিভ কিছু লাগিয়ে নিন।
  12. সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রে থেকে বাঁচতে সরাসরি সূর্যালোকের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। বাইরে বেড়োনোর সময় অবশ্যই স্কার্ফ , হ্যাট বা ছাতা সঙ্গে রাখুন।

চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া কিছু উপায়

এখন তবে চুল পড়া বন্ধ করার কিছু ঘরোয়া উপায় জেনে নেওয়া যাক। ঘরোয়া কিছু সহজ উপায়েই আপনি আপনার চুল পড়া সমস্যা থেকে খুব দ্রুত মুক্তি পেতে পারেন। সেইসাথে পেতে পারেন ঘন – উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত চুলের আনন্দ।

মেথি – অ্যালোভেরা হেয়ার প্যাক:

২ চামচ মেথি গুঁড়ো ও ২ চামচ ফ্রেস অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে স্কার্ল্ফে ম্যাসাজ করুন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

সপ্তাহে একদিন করে একমাস ব্যবহার করুন।

পেঁয়াজ – অ্যালোভেরা হেয়ার প্যাক:

১ কাপ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিয়ে স্কার্ল্ফে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। ১ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

সপ্তাহে একদিন করে একমাস ব্যবহার করুন।

মেহেদী – আমলকি হেয়ার প্যাক:

৩ টেবিল চামচ মেহেদী গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ আমলকি গুঁড়া ও ৪ টেবিল চামচ হালকা গরম পানি মিশিয়ে স্মুদ মিক্সার তৈরি করে একটি কাঁচ/ প্লাস্টিকের পাত্রে নিয়ে সারারাত রেখে দিন। এক্ষেত্রে ম্যাটাল ব্যবহার না করাই ভালো। পরের দিন প্যাকটি স্কার্ল্ফসহ পুরো চুলে খুব ভালো করে লাগিয়ে নিন এবং ১-২ ঘন্টা পর ঠান্ডা পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল পড়া বন্ধ করতে প্যাকটি মাসে একবার ব্যবহার করলেই হবে।

নারিকেলের দুধ – অ্যালোভেরা হেয়ার প্যাক:

৪ চামচ নারিকেলের দুধ ও ৪ চামচ অ্যালোভেরা জেল এবং ১ চামচ নারিকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে স্কার্ল্ফে লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

প্যাকটি এক মাস সপ্তাহে এক দিন করে ব্যবহার করুন।

জবাফুল – অ্যালোভেরা হেয়ার প্যাক:

২ চামচ জবাফুল পেস্ট ও ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল একসঙ্গে মিশিয়ে মসৃণ মিশ্রণ বানিয়ে স্কার্ল্ফে লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

আমলকি – নারিকেল তেল হেয়ার প্যাক:

চুল পড়া বন্ধ করতে আমলকির জুরি নেই। ১০-১২ টি সতেজ তাজা আমলকি বিচি ছাড়িয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর তাতে নারিকেল তেল রোগ করে আরো কিছুক্ষণ ব্লেন্ড করুন। মিশ্রণটি পাতলা মনে হলে তাতে আমলকি গুঁড়া মিশিয়ে নিতে পারেন। এক ঘন্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল পড়া বন্ধে ভালো ফল পেতে হেয়ার প্যাকটি সপ্তাহে দুদিন ব্যবহার করতে পারেন।

ভিটামিন ‘ ই ‘ তেল – সাধারণ তেলের হেয়ার প্যাক:

সাধারণত চুলে যে তেল ব্যবহার করে থাকেন তার সাথেই ভিটামিন ‘ ই ‘ ক্যাপসুলে থাকা তেলটি মিশিয়ে নিন। স্কার্ল্ফে ভালো করে ম্যাসাজ করুন এবং ২-৩ ঘন্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। সপ্লাহে দুদিন এই হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভিটামিন ‘ ই ‘ ক্যাপসুল – কোকোনাট অয়েল – ক্যাস্টর অয়েল হেয়ার প্যাক:

তুলনামূলক খাটো চুলের জন্য ৪-৫ টি এবং লম্বা চুলের জন্য ৭-৮ টি ক্যাপসুল নিয়ে তা থেকে তেল বের করে একটি কাঁচের বাটিতে রাখুন। তার সাথে ২ চা চামচ কোকোনাট অয়েল ও ২ চা চামচ ক্যাস্টর অয়েল যোগ করে ৫ মিনিট রেখে দিন।

একটি বড় বাটিতে গরম পানি রেখে তার উপর কাঁচের বাটি রেখে তেল নাড়তে থাকুন। ৩-৪ মিনিট পর তা বোতলে ভরে রাখুন এবং রাতে শোয়ার আগে মাথায় ভালো করে ম্যাসাজ করুন। সকালে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল পড়া সমস্যা বন্ধ করতে এই প্যাকটিও বেশ কার্যকরী। প্যাকটি অবশ্যই সপ্তাহে ৩ বার ব্যবহার করতে হবে। 

সরিষার তেল

অবাক হচ্ছেন! হ্যাঁ, চুলের যত্নে সরিষার তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে। সরিষার তেলে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, বিভিন্ন মিনারেল ও ভিটামিন। এছাড়া আছে জিঙ্ক, বিটা ক্যারোটিন ও সেলেনিয়াম যা শুধু চুল পড়া রোধ করতেই নয়, চুল লম্বা করতেও সাহায্য করে।

  • পরিমাণ মতো সরিষার তেল, লেবুর রস ও ধনিয়া গুঁড়া মিশিয়ে সম্পূর্ণ চুলে লাগান। ৩০ মিনিট পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহারে চুল মজবুত হবে। সেইসাথে দূর হবে খুশকি।
  • সরিষার তেলের সঙ্গে টকদই মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে নিন। এবার গরম পানিতে ভেজানো একটি তোয়ালে নিংড়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর ভেষজ বা মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক/দুদিন ব্যবহার করতে পারেন।
  • সরিষার তেল ও অ্যালোভেরা মিশিয়ে সম্পূর্ণ চুলে লাগান। ৪০ মিনিট পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুদিন ব্যবহার করতে পারেন।

ডিম – অলিভ অয়েল হেয়ার প্যাক:

১ টি ডিম ও ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে স্কার্ল্ফে লাগান। ৪৫ মিনিট পর কোন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। প্যাকটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করতে পারেন।

ডিম – মধু – দুধ হেয়ার প্যাক:

২ টি ডিম, ২ টেবিল চামচ মধু ও ২ টেবিল চামচ দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে স্কার্ল্ফে লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুদিন প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন।

চুল পড়া বন্ধ করার জন্য আপনার সুবিধামত যেকোনো প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন হেয়ার প্যাক ব্যবহারের পর অবশ্যই মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিতে হবে। এ ধরনের শ্যাম্পু ক্ষতিকর ক্যামিকেল মুক্ত এবং সেইসাথে অতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতিও নেই। একারণেই চুল পড়া বন্ধ করতে হেয়ার প্যাক ট্রিটমেন্টের জন্য মাইল্ড শ্যাম্পুই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।

চুল পড়া যদি কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে একদম ভুল করবেন না! 

বর্তমানে ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্যই চুল পড়া মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই হেয়ারফলকে অবহেলা না করে আগে থেকেই এর প্রতিরোধ ও প্রতিকারে উদ্যোগী হয়ে উঠুন আর উপভোগ করুন ঘন , স্বাস্থ্যজ্জ্বল চুলের নজরকাড়া সৌন্দর্য। 

গত দুই পর্বের আলোচনায় চুল পড়ার কারণ ও চুল পড়া বন্ধ করার উপায় নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আমাদের এই শ্রম আপনাদের অনেক উপকার এনে দিবে।


ফিচার্ড ইমেজ ক্রেডিট: By Slavoljubovski Via Pixabay.Com

Share On:
লাবনী আক্তার সেতু

একজন সম্ভাবনাময়ী মানুষ। নতুন বিষয় জানতে ভালোবাসেন। স্বপ্ন একদিন অকৃত্রিম ভালোবাসা দিয়ে জগত জয় করার। ↗️

3 thoughts on “চুল পড়া বন্ধ করার উপায় (পর্ব- ০২)”

Leave a Comment