ঘরে বসে মেকআপ করার সকল উপায় জেনে নিন এক নিমিষে

ঘরে বসে মেক আপ করার উপায়: সাঁজগোজ করতে কে না পছন্দ করে! জন্মদিন হোক কিংবা বিয়ে, সকল অনুষ্ঠানেই নিজেকে অনন্য করে তোলা চাই। অনেকে আবার অকারণেই শুধুমাত্র শখের বসে সবসময় ফিটফাট হয়ে থাকতে চায়। কিন্তু সেজন্য তো যখন তখন পার্লারে দৌঁড়ানো সম্ভব নয়। একারণেই প্রয়োজন ঘরকে পার্লার বানিয়ে ফেলা।

কিন্তু অধিকাংশ মেয়ের কাছেই মেকআপের সঠিক নিয়মটি ঘোলাটে। যার ফলে ঘরে বসে মেকআপ করলে সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব হয় না।

একসময় আমার মধ্যেও মেকআপ নিয়ে ছিল বিস্তর দ্বিধা। কিভাবে কী করব– আগে ফাউন্ডেশন নাকি প্রাইমার, মুখের কোথায় ব্লাশ অন আর কোথায়ই বা কনটোরিং, বুঝতে পারতাম না।

আপনিও কি বিষয়গুলো নিয়ে ভেবে যাচ্ছেন? দ্বিধার কারণে নিজে নিজেই মেক আপ করার সাহস পাচ্ছেন না?

তবে সকল দ্বিধা মন থেকে এখনই ঝেড়ে ফেলুন এবং ঝটপট পড়ে ফেলুন পুরো লেখাটি। জেনে নিন , কিভাবে ঘরে বসেই পেতে পারেন মেকআপের পারফেক্ট লুক।

ঘরে বসে মেকআপ করার নিয়ম ও ধাপ

ঘরে বসে মেকআপ করে ভালো ফল পেতে ৪ টি ধাপ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক–

  • মেকআপের জন্য ফেস প্রিপেয়ার
  • ফেস মেকআপ
  • আই মেকআপ
  • লিপ মেকআপ
  • ঘরে বসে মেকআপ সেট আপ

মেকআপের জন্য ফেস প্রিপেয়ার

মেকআপ শুরুর আগে চেহারাকে যে পদ্ধতিতে প্রস্তুত করে নেয়া হয়, তাকে ফেস প্রিপেয়ার বলে। ফেস প্রিপেয়ারের জন্য নিম্নলিখিত ধাপগুলো লক্ষ্য করুন।

প্রথম ধাপ: স্ক্রাবিং

ফেস প্রিপেয়ারের জন্য প্রথমেই করে নিতে পারেন স্ক্রাবিং। ত্বকের শুষ্কতা, ব্ল্যাক বা হোয়াইটহেডস ও রোদে পোড়া দাগ দূর করে ত্বককে মসৃণ করে তুলতে স্ক্রাবিং করা সত্যিই খুব প্রয়োজন। ঘরে বসে মেকআপ এর ক্ষেত্রে স্ক্রাবিংটাও খুব সহজেই সেরে নিতে পারেন ঘরে বসেই।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে স্ক্রাব তৈরি করতে পেঁপের কাঁথের সঙ্গে টকদই ও ওটমিলের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এবার সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এছাড়া কমলার খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে তাতে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়েও স্ক্রাব তৈরি করতে পারেন।

লক্ষণীয় বিষয় : মুখে কখনোই খুব জোরে বা ঘষে ঘষে স্ক্রাব দিয়ে ম্যাসাজ করবেন না। ব্রণ থাকলে খুব সাবধানে স্ক্রাব ব্যবহার করুন।

চোখের আশেপাশে স্ক্রাবিং না করাই ভালো। কারণ এই অংশের ত্বক অনেক পাতলা ধরণের।

স্ক্রাব তৈরির ক্ষেত্রে যেকোন গুঁড়ার সঙ্গে ফলের রস ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এতে ত্বক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি উজ্জ্বলও হবে।

যেকোন স্ক্রাব দিয়েই ৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে ম্যাসাজ করা উচিত নয়। কেননা স্ক্রাব যত কম সময় ধরে করা যায় ততই ভালো।

স্ক্রাবিং এর ক্ষেত্রে শুষ্ক, তৈলাক্ত বা মিশ্র ত্বকের বিষয়টি লক্ষ্য রাখুন। কেননা ত্বকের ধরণ অনুযায়ী স্ক্রাবের ধরণ ও ভিন্ন হতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপ: ফেসওয়াশ/ক্লিঞ্জার ব্যবহার

পর্যাপ্ত পরিমাণ ফেসওয়াশ বা ক্লিঞ্জার নিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন এবং কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার ত্বকে জমে থাকা ধুলাবালি এবং ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে যাবে।

ত্বকে জমে থাকা ময়লা মেকআপকে চেহারা থেকে আলাদা করে ফেলে। এ কারনে মেকআপ চেহারায় ঠিকমতো বসতে পারে না। এছাড়া মেকআপ যেহেতু একটি আর্ট, সেহেতু আর্টটি অবশ্যই হতে হবে পরিষ্কার ঝকঝকে একটি ক্যানভাসে।

লক্ষণীয় বিষয়: সবধরনের ফেসওয়াশ বা ক্লিঞ্জার সব ধরণের ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়।

আপনার ত্বক তৈলাক্ত হলে জেল ফেসওয়াশ/ ফোম ক্লিঞ্জার ব্যবহার করুন। এটি আপনার ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করবে।

ত্বক শুষ্ক হলে ব্যবহার করুন ক্রীম ফেসওয়াশ/ ক্রীম ক্লিঞ্জার। এতে আপনার ত্বক হবে হাইড্রেটেড ও ময়েশ্চারাইজড।

তৃতীয় ধাপ : টোনার ব্যবহার

শুধুমাত্র ফেসওয়াশ/ ক্লিঞ্জার ব্যবহারে ত্বকের গভীরে থাকা ময়লা সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয় না। তাই মুখ পরিষ্কারের কাজটি সম্পূর্ণ করতে ব্যবহৃত হয় টোনার।

ফেসওয়াশ বা ক্লিঞ্জার দিয়ে মুখ ধোয়ার পর অবশ্যই ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হয়। তারপর একটি তুলোর বলে সামান্য পরিমাণ টোনার ঢেলে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন টোনার তুলোর বলে খুব বেশি শুষে না যায়। এরপর আলতো করে সারা মুখে টোনারটি লাগিয়ে নিতে হবে। নাশের পাশে এবং হেয়ার লাইনগুলোতে ভালো করে টোনার লাগিয়ে ২ মিনিটের মতো অপেক্ষা করতে হবে।

মুখ পরিষ্কার করে দেয়া ছাড়াও টোনার স্কিনের আরো উপকার করে দিতে সক্ষম। যেমনঃ ত্বকের রোমছিদ্র সংকোচিত করে ধুলো ময়লা প্রবেশে বাঁধা দেয়া, ত্বকের উপর বাড়তি সুরক্ষা স্তর সৃষ্টি করা, ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখা এবং ত্বককে মসৃণ ও টানটান রাখা ইত্যাদী।

পারফেক্ট মেকআপের ক্ষেত্রে টোনার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেকেই ফেস প্রিপেয়ারের জন্য ক্লিনজিং ও ময়েশ্চারাইজিং কে অধিক গুরুত্ব দিলেও মাঝের ধাপ অর্থাৎ টোনিং বাদ দিয়ে যান। আর এখানেই পারফেক্ট মেকআপে রয়ে যায় ঘাটতি। তাই টোনিং বাদ দেওয়ার কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

লক্ষণীয় বিষয়: টোনার এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যেন তা চোখের আশেপাশে বা কোনমতে চোখে না যায়।

টোনার ব্যবহারের আগে তুলোর বলটি গরম পানিতে ধুয়ে, ভালো করে নিংড়ে নিতে হবে।

টোনার লাগানোর সময় ত্বকে ঘষাঘষি করা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকতে হবে।

চতুর্থ ধাপ : ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার

টোনার ব্যবহারের পর মুখ ও গলায় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। হাতের আঙুলে অল্প পরিমাণ ময়েশ্চারাইজার নিয়ে উপরের দিকে স্ট্রোক দিয়ে সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন।

এটি আপনার ত্বকের শুষ্কতা রোধ এবং স্কিন স্মুথ করার পাশাপাশি বয়সের ছাপও কমাবে। শুষ্ক ত্বককে আর্দ্রতা প্রদান, ময়েশ্চারাইজারের প্রধান কাজ। এটি ত্বককে ভেতর থেকে নরম ও মসৃণ করে যার ফলে ত্বকে মেকআপ ভালোভাবে বসতে পারে, মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সেই সাথে ত্বকের লোমকূপে মেকআপ প্রবেশ করতে না পারায় ব্রণের আশঙ্কাও আর থাকে না।  

লক্ষণীয় বিষয়: সূর্যের আলো প্রতিরোধী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের শুষ্কতা রোধ হওয়ার পাশাপাশি সূর্যের আলোর ক্ষতিকর রশ্মি থেকেও ত্বক রক্ষা পাবে।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের সময় মুখে চাপ প্রয়োগ করবেন না। সেই সাথে ঘষে ঘষে প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকুন।

স্বাভাবিক ত্বকের জন্য পানি নির্ভর ময়েশ্চারাইজার, স্বাভাবিকের চেয়ে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য লিকুইড ময়েশ্চারাইজার, ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য অয়েল ফ্রী ময়েশ্চারাইজার এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রীম ময়েশ্চরাইজার ব্যবহার করুন।

ফেস মেকআপ বা মুখের মেকআপ করার পদ্ধতি

ঘরে বসে মেকআপ করলে শুরুতেই আসে ফেস মেকআপ। এরপর আসে আই মেকআপ ও লিপ মেকআপ। আগে চেহারাকে ঠিকঠাক মতো গুছিয়ে নিলে চোখের ও ঠোঁটের সাঁজ অনেকটাই সহজ ও পারফেক্ট ভাবে করা যায়। ঘরে বসে মেকআপ করার সময় ফেস মেকআপের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক এই স্টেপগুলো অনুসরণ করুন।

প্রথম ধাপ : প্রাইমার

মেকআপ একদম নিখুঁত করতে প্রাইমার ব্যবহার না করলেই নয়। এটি ত্বক এবং মেকআপের মাঝখানে একটি লেয়ার সৃষ্টি করে, যা ত্বককে মেকআপের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে।

এছাড়া ত্বকে বাড়তি উজ্জ্বলতা যোগ করতে, মেকাপ দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং মুখের যেকোন দাগ ঢাকতে প্রাইমার ব্যবহার আবশ্যক।

প্রাইমার ব্যবহারের নিয়মঃ

অল্প পরিমাণ প্রাইমার নিয়ে মুখের বিভিন্ন অংশে লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। একইসাথে কপাল ও ঘাড়ে প্রাইমার লাগিয়ে নিন। প্রয়োজন অনুসারে রঙিন প্রাইমার ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের লালচে ভাব দূর করতে সবুজ প্রাইমার হলদে ভাব দূর করতে বেগুনী প্রাইমার এবং ত্বকে উজ্জ্বলতা আনতে গোলাপী প্রাইমার ব্যবহার করতে পারেন।

লক্ষণীয় বিষয়: ত্বকের ধরণ অনুযায়ী প্রাইমার সিলেক্ট করুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ম্যাটিফাইং বা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বেইসড প্রাইমার এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য জেল বেইজড প্রাইমার ব্যবহার করতে হয়।

ফাউন্ডেশনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রাইমার নির্বাচন করবেন। ফাউন্ডেশন যদি পানি নির্ভর হয় তবে পানি নির্ভর প্রাইমারই সিলেক্ট করতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ : কনসিলার

চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল, মুখের কালো দাগ বা ত্বকের রেডনেস ঢাকতে কনসিলার ব্যবহার করা হয়।

ডার্ক সার্কেল দূর করতে চোখের নিচে কনসিলার দিয়ে ত্রিভুজ এঁকে ব্রাশ বা স্পঞ্জ দিয়ে ব্লেন্ড করুন।

নাকের চারপাশের রেডনেস ঢাকতে চারপাশে কনসিলার লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন।

ত্বকের কালো দাগ ঢাকতে, দাগের উপর অল্প পরিমাণ কনসিলার লাগিয়ে ছোট কনসিলার ব্রাশ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।

লক্ষণীয় বিষয়: কনসিলার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখবেন তা যেন ত্বকের রঙের চেয়ে খুব বেশি হালকা না হয়। 

চোখের ডার্ক সার্কেল বা মুখের কালো দাগ ঢাকতে কমলা/হলুদ রঙের কনসিলার ব্যবহার করুন। এছাড়া পিচ টোন ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বকের লালচে ভাব ঢাকতে ব্যবহার করুন সবুজ রঙের কনসিলার।

তৃতীয় ধাপ : ফাউন্ডেশন

ছোটবড় প্রায় সকলেই কাছেই ফাউন্ডেশন বেশ পরিচিত। মুখের পারফেক্ট গঠন তৈরি করতে এটি ব্যবহার না করলেই নয়। এটি ত্বকের খুঁত ঢেকে ত্বকে উজ্জ্বলতা ও দীপ্তি বৃদ্ধি করে কাঙ্ক্ষিত স্কিনটোন পেতে সাহায্য করে।

ফাউন্ডেশন ব্যবহারের নিয়ম (Makeup korar niyom)

আঙুলের আগায় পরিমাণ মতো ফাউন্ডেশন নিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে মুখ ও গলায় লাগান।

এরপর একটি ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করে নিন। ভেজা স্পঞ্জ ব্যবহারে অতিরিক্ত ফাউন্ডেশন স্পঞ্জেই লেগে থাকায় ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড স্মুথ হয়। 

ব্রাশ ব্যবহারে ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করতে সবসময় ডাউনওয়ার্ড স্ট্রোক বা নিচের দিকে স্ট্রোক দিন।

ব্যবহারের পর পাউডার দিয়ে ফাউন্ডেশন সেট করে নিন।

লক্ষণীয় বিষয়: ফাউন্ডেশন গোলাপী ও হলুদ এই দুই টোনের হয়। এছাড়া ফাউন্ডেশনের রয়েছে বিভিন্ন শেইড। এজন্য কেনার আগে যাচাই করে নিন আপনার ত্বকের জন্য কোন ধরণের ফাউন্ডেশন মানানসই হবে। আবার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ব্যবহার করা প্রয়োজন ম্যাট ফাউন্ডেশন।

প্রাইমার, কনসিলার ব্যবহারের ৫-১০ মিনিট পর ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে হবে। 

ফাউন্ডেশন কখনোই হাত দিয়ে ব্লেন্ড করবেন না।

ফাউন্ডেশন সেট করতে কখনোই পাউডার ঘষে ব্যবহার করতে যাবেন না। পাউডার ব্রাশে নিয়ে হালকা চেপে চেপে ব্যবহার করুন।

চতুর্থ ধাপ : কনটোরিং, ব্লাশ অন, হাইলাইটিং

অনেকবারই একা একা ঘরে বসে মেকআপ করার পর আমার মনে হয়েছে মুখের প্রাকৃত লুকটা আর নেই। মেকআপ সম্পর্কে তেমন ধারণা না থাকায় এর কারণটা তখন কিছুতেই ধরতে পারিনি। পরে বুঝতে পারি ফাউন্ডেশন ব্যবহারের পর আমাদের ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় রঙের তারতম্য থাকে না বলে মুখের আসল লুক আর পাওয়া যায় না। আলোছায়ার তারতম্য সৃষ্টি করে ত্বকের ন্যাচারাল লুক ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে কনটোরিং, ব্লাশ অন এবং হাইলাইটিং।

কনটোরিং, ব্লাশ অন ও হাইলাইটিং করার নিয়ম (Makeup korar niyom)

কনটোরিং এর ক্ষেত্রে সামান্য ব্রঞ্জ পাউডার ব্রাশে নিয়ে ঠিক চোয়াল বা চিকবোন বরাবর ব্রাশ করুন। ব্রঞ্জার কানের পাশ এবং সেখান থেকে টেনে কপালে চুলের লাইনে ব্রাশ করে নিন। এরপর নাকের দুপাশেও ব্রঞ্জার ব্রাশ করুন।

কনটোরিং এর পর ব্লাশ অন ব্যবহারের পালা। হাসলে আপনার মুখের যে অংশটুকু ফুলে ওঠে, ঠিক সেখানে নিচ থেকে উপরের দিকে ব্লাশ অন ব্রাশ করুন এবং তা কান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান। ব্লাশ অন ব্যবহার করতে হবে চোয়ালে করা কনটোরিং এর সামনের দিকটাতে।

কনটোরিং ও ব্লাশ অন -এর পর পছন্দসই হাইলাইটার ছোট ব্রাশে নিয়ে চোয়ালের হাড়, নাকের হাড়, কপালের মাঝ বরাবর হাড়ের উপর এবং ঠোঁটে হালকা করে ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের আলোছায়া সৃষ্টির শেষ এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আই মেকআপ বা চোখের মেকআপ করার পদ্ধতি

চোখের সৌন্দর্য পৃথিবীর সকল সৌন্দর্যকে হার মানায়। ঘরে বসেই চোখকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন পারফেক্ট মেকআপের ছোঁয়ায়।

আই মেকআপের ধাপগুলি নিচে পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করা হয়েছে।

১ম ধাপঃ আইভ্রু

ভ্রু সুঠাম করতে হালকা রঙের আইভ্রু ব্যবহার করুন। কনসিলার ব্যবহার করে ভ্রু লাইন ক্লিয়ার করে নিন।

২য় ধাপঃ আইশ্যাডো

ত্বকের রং অনুযায়ী আইশ্যাডো নির্বাচন করুন। যদি আপনার ত্বকের রং ফর্সা হয় তবে লাল, নীল, পার্পল , গোলাপী এসব রং নির্বাচন করুন। যদি শ্যামলা ত্বকের অধিকারী হোন তবে গোল্ডেন, কপার, মিক্সড ব্রাউন এ ধরণের রং নির্বাচন করুন। এসবের যেকোন একটি বা দুটি রং ব্যবহার করতে পারেন। আর হ্যাঁ, আইশ্যাডো ব্যবহারের আগে চোখের পাতায় অবশ্যই আই প্রাইমার লাগিয়ে নিন। এটি আপনার চোখে আইশ্যাডোর সঠিক রং এবং দীর্ঘস্থায়ীত্ব নিশ্চিত করবে।

৩য় ধাপঃ আইলাইনার ও কাজল

চোখের শেপ ঠিকঠাক বোঝাতে আইলাইনার ও কাজল ব্যবহার করুন। সঠিক স্ট্রোকে আইলাইনার বা কাজল ব্যবহার করা হলে তা চোখের সৌন্দর্য অনেকটুকুই বাড়িয়ে তুলবে। প্রায় সকলেই এক্ষেত্রে কালো রঙ বাছাই করে থাকে। তবে আপনি চাইলে নীল, সবুজ বা অন্য যেকোন রঙের আইলাইনার বা কাজলও সিলেক্ট করতে পারেন।

চতুর্থ ধাপ : মাশকারা

চোখের পাপড়ি বড় ও ঘন দেখাতে মাশকারা ব্যবহার করুন। এটা ব্যবহারের আগে মাশকারা প্রাইমার ব্যবহার করে নিতে পারেন। এছাড়া পাপড়ি ঘন দেখাতে ২-৩ দফা মাশকারার কোট দিন।

পাপড়ি বড় ও কোকড়ানো দেখাতে ব্রাশ নিচ থেকে উপরের দিকে ঘোরান।

লিপ মেকআপ বা ঠোঁটের মেকআপ করার নিয়ম

ঠোঁটের সাজ আমদের সকলেরই জানা। তবে কতটা নিখুঁতভাবে আপনি এই সাঁজটা সেরে নিচ্ছেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যায়। কথা না বাড়িয়ে এবার জেনে নেওয়া যাক ঠোঁটের সাঁজের সঠিক ধাপগুলো।

১ম ধাপ: লিপ লাইনার

অনেকেই লিপ লাইনার ব্যবহার করেন চান না। কিন্তু ঠোঁটের সঠিক শেইপ আনতে লিপ লাইনার দিয়ে লিপ লাইন এঁকে নেওয়া প্রয়োজন। এতে লিপস্টিক দেওয়ার সময় আর বাইরে ছড়িয়ে পড়বে না।

এর প্রয়োগ খুবই সাধারণ। প্রথমে নুড শেঠের লাইনার দিয়ে লিপ লাইন এঁকে নিন। এরপর লিপস্টিকের শেডের সাথে ম্যাচ করা লিপ লাইনার দিয়ে লিপ লাইন আঁকুন।

২য় ধাপ: লিপস্টিক

চিত্রসূত্র: Pixels.com

ড্রেস বা সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লিপস্টিক সিলেক্ট করুন। তবে লিপস্টিক হালকা শেডের হওয়াই ভালো।

লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটে অবশ্যই লিপ প্রাইমার লাগিয়ে নিন। এতে ঠোঁটে ব্যবহারের পর লিপস্টিকের সঠিক রং নিশ্চিত হবে এবং সেই সাথে লিপস্টিক হবে লং লাস্টিং।

ঠোঁটের মাঝখান থেকে লিপস্টিক দেওয়া শুরু করুন। এতে লিপস্টিক ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমবে।

লিপস্টিকে ম্যাট ফিল আনতে ঠোঁটে হালকা পাউডার ব্রাশ করুন অথবা টিস্যু দিয়ে ঠোঁটে হালকা চাপ দিন।

ঘরে বসে মেকআপ সেটআপ

মেকআপ করার পদ্ধতি শেখার পর, এবার জেনে নিন মেকআপকে সেট আপ করা সম্পর্কে। একবার মেকআপ সেট করে নিলে মেকআপ উঠে যাওয়া বা ঘামে নষ্ট হয়ে যাওয়া নিয়ে আর ভাবতে হয় না।

এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন মেকআপ সেটিং স্প্রে। স্প্রে-টি মুখের ৮-১০ ইঞ্চি দূর থেকে মুখ ও গলায় ৩-৪ বার স্প্রে করুন।

লক্ষণীয় বিষয়: অয়েলি স্কিনের জন্য ম্যাট (Matt) ফিনিশ এবং ড্রাই স্কিনের জন্য ডিউই (dewy) ফিনিশের সেট আপ স্প্রে ব্যবহার করুন।

দিনশেষে মেকআপ রিমুভ করতে যেন ভুল না হয়

প্রথমে মেকআপ রিমুভার দিয়ে মেকআপ উঠিয়ে তারপর ফেসওয়াশ/ক্লিঞ্জার ব্যবহার করুন। ভুলেও মেকআপ রিমুভ না করে ফেসওয়াশ/ ক্লিঞ্জার ব্যবহার করবেন না।

শেষকথা – মেকআপ করার নিয়ম

সঠিক পদ্ধতিতে মেকআপ করা হলে তা আর অপ্রাকৃতিক মনে হবে না। নিয়ম না মেনে মেকআপ করলে সবার তো দূর আপনার নিজেরই মনে হবে মুখে একগাদা আটাময়দা মেখে বসে আছেন! 

ঘরে বসে মেকআপ করার সঠিক উপায়গুলো তো জেনে নিলেন। তবে এবার আর ভুলভাল সাঁজ নয়! পার্লারেরই বা আর কি দরকার? নিয়মগুলো মেনে খুব সহজেই যেকোনো সময় নিজের ঘরে বসে মেকআপের ঝামেলা সেরে নিতে পারেন। তাতে অর্থ আর সময় তো সাশ্রয় হবেই, সেই সাথে আপনি আয়ত্ব করে নিতে পারবেন অসাধারণ একটি আর্ট!

প্রাসঙ্গিক লেখা-

3 thoughts on “ঘরে বসে মেকআপ করার সকল উপায় জেনে নিন এক নিমিষে”

  1. টিপ, লিপিস্টিক, জামা কাপর পড়ার সময় ঠিকমতো কালার ম্যাচিং করতে হয় কিভাবে? জানাবেন প্লিজ আপু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *